ঢাকা,  শুক্রবার   ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]
তীব্র হতে পারে ৩টি

শীতে দেশজুড়ে ৪ থেকে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৫, ৬ নভেম্বর ২০২৬
শীতে দেশজুড়ে ৪ থেকে ৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

চলতি শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এবার শীতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি, ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শৈত্যপ্রবাহের সময় ও অঞ্চল সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এ সময় দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে।

জানুয়ারিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা বেশি। এ মাসে কখনো কখনো এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

কুয়াশায় বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি

আগামী তিন মাসে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি বাড়বে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। এ কারণে এবার শীত মৌসুম তুলনামূলক উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলেও অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাবে শৈত্যপ্রবাহ কতবার হবে এবং কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।

ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে দুটি লঘুচাপ

শীতের পূর্বাভাসের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ সময়। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে প্রায়ই লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

তিনি জানান, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। তবে বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূর্যের তাপের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এতে লঘুচাপ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও প্রতিবছর একইভাবে ঘটে না।

বৃষ্টিপাত নিয়ে পূর্বাভাস

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিভাগভেদে বৃষ্টির পরিমাণে পার্থক্য থাকবে।

নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার এবং বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিসেম্বরে বৃষ্টিপাত আরও কমে আসতে পারে। এ মাসে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

অক্টোবরে বৃষ্টি কমেছে ৬৮ শতাংশ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ১৭ অক্টোবর। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৭ অক্টোবর।

গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, ০ দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভিন্ন আবহাওয়াগত উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের পরিস্থিতি, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এতে এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, ১৯৪৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির তথ্য বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকায় নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এবারের শীত সামগ্রিকভাবে কিছুটা উষ্ণ থাকতে পারে। তবে বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!