ঢাকা,  বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

কলেরার টিকায় ৮২.৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:১২, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলেরার টিকায় ৮২.৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন
টিকা নিচ্ছে শিশু। ছবি: সংগৃহীত

দেশে কলেরার মুখে খাওয়ার টিকা (ওসিভি) কর্মসূচির প্রথম ধাপে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৮ লাখ ৫২ হাজার মানুষ প্রথম ডোজের টিকা পাননি। সবচেয়ে কম টিকাদান হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন। ফলে লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন টিকার আওতার বাইরে রয়েছেন।

Advertisement

বাদ পড়া মানুষের বড় অংশ নারায়ণগঞ্জের। জেলাটিতে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও টিকা পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন। অর্থাৎ ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ প্রথম ডোজ পাননি। প্রথম ধাপে বাদ পড়া মোট মানুষের প্রায় ৪২ শতাংশই নারায়ণগঞ্জের।

গত ২২ আগস্ট দেশে প্রথমবারের মতো দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা কর্মসূচি শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরের সাতটি থানা এবং চার জেলার সাতটি উপজেলাকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

প্রথম ডোজ দেওয়ার কার্যক্রম চলে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজের কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর, যা চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

কলেরার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১৪টি এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার সাতটি থানা হলো—লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও।

ঢাকার বাইরে কর্মসূচির আওতায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর ও নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও হোসেনপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা।

এসব এলাকার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে বেশি ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছেন। এরপর কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ টিকা নিয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের হার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

কেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি

কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রত্যাশা ছিল ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা। তবে সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তার মতে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জনের হার একেবারে খারাপ নয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এবার এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। সাধারণ টিকাদান কর্মসূচিতে মূলত শিশুদের লক্ষ্য করা হলেও এবার সব বয়সী মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তুলনামূলক কঠিন হয়েছে।

এ ছাড়া লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মজীবী হওয়ায় কর্মঘণ্টার সঙ্গে টিকাদানের সময়সূচির সমন্বয় না থাকায় অনেকে টিকা নিতে পারেননি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করায় সেখানে বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

নারায়ণগঞ্জে জনবসতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। পাশাপাশি মানুষের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যাওয়াকেও টিকা থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা গাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের একটি প্রতিনিধি দল টিকাদানের অর্জিত হার নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। কর্মসূচির জন্য গাভি বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ করেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, তাদের নির্দিষ্ট কোনো অর্জন লক্ষ্যমাত্রা ছিল না। তিনি বলেন, এটি একটি প্রতিরোধমূলক টিকা কর্মসূচি। যতটুকু টিকাদান হয়েছে, সেটিই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে লক্ষ্যমাত্রার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের কেন্দ্র করে পরিচালিত কর্মসূচির তুলনায় এ ধরনের কর্মসূচিতে সাধারণত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার কিছুটা কম থাকে। মানুষকে টিকা নিতে উৎসাহিত করতে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে তুলনামূলক কম টিকাদানের কারণ জানতে জেলার সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না।

পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বির যৌথ গবেষণায় দেশের ১৪৪টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের থানাকে কলেরার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মানুষকে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কলেরার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রথম ধাপে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৪টি এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ওসিভি টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক্‌যোগ্যতা অর্জন করেছে। ধাপে ধাপে বাকি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকেও কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন অনেকটাই অর্থায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!