ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার: প্রধান বিচারপতি

নারায়ণগঞ্জ  প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০১, ৩ মে ২০২৩
বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার: প্রধান বিচারপতি
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে বিচারক ও আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী- ছবি: সংগৃহীত

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, বিচারকরা একটি জিনিস মনে রাখবেন- বিচার বিক্রির জিনিস নয়। বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, আদালত চত্বরে যারা বিচার পাওয়ার আশায় আসেন তাদের পয়সায় আপনার আমার বেতন হয়। তারা যেন সুবিচার পায় সে বিষয়ে বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সবার খেয়াল রাখা উচিত।

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে বিচারক ও আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিতব্য ছায়াকুঞ্জের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন ও নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

Advertisement

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, বিচার বিভাগের সব কর্মকাণ্ডে বিচারক ও আইনজীবী একই সুতোয় গাঁথা মালা। আপনারা মনে রাখবেন বিচার যদি একটি পাখি হয় তবে বিচারকরা সেই পাখির একটি ডানা এবং আইনজীবীরা আরেকটি ডানা। এই দুটি ডানা যদি সমান তালে না ঝাপটাতে পারে তবে সেই পাখিটি উড়তে পারে না। ঠিক একইভাবে আপনাদের মাঝে যদি সমন্বয় না থাকে তবে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পেতে বেগ পেতে হবে ও দীর্ঘ মামলাজট দেখা দেবে।

আইনজীবীদের প্রতি আদালত বর্জন না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমার কোনো বিচারক যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, কিংবা তার দায়িত্বে পালনে কোনো গাফিলতি থাকে তবে আপনারা আমাকে এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারদের জানাবেন। আপনাদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা।

তিনি বলেন, একটি জিনিস মনে রাখবেন- বিচার বিক্রির জিনিস নয়। যদি কোনো বিচারক বিচার বেচাকেনা করেন, তাহলে আমি তাকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবো না, এমনকি তার বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২২ সালে আপনারা ১৬৩ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এ বছর সেই ধারা যদিও কিছুটা কমেছে, তবে যেই ধারা চলমান আছে তা সন্তোষজনক।

তিনি বলেন, চলতি বছরে শতকরা ১৩১ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তবে অচিরেই মামলাজট থেকে বিচারপ্রার্থীরা রেহাই পাবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রাব্বানী, উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার মুন্সি মশিয়ার রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আসসামছ জগলুল হোসেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মুন্সি মোহসীন মিঞা প্রমুখ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!