স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমেও খাল পারাপারে ভোগান্তি রয়েছে। আর বর্ষায় খালে ১০ ফুটের বেশি পানি জমলে চরপাড়াটি চারদিক থেকে পানিতে ঘেরা হয়ে যায়। তখন শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো কিংবা পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়।
প্রতিবছর স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়। তবে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
.png)
স্থানীয়দের দাবি, এরই মধ্যে অনেক শিশু ও বয়োবৃদ্ধ সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছেন।
চরপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কাদের জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার বাবা কুড়ান মণ্ডল খালের ওপারে বাড়ি করেন। পরে যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে বসতি গড়েন। বর্তমানে চরপাড়ায় বেশকিছু পরিবার রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্ষার শুরু থেকে প্রায় ছয় মাস খালে পানি থাকে। তখন পুরো পাড়াটি দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও সেটি নিরাপদ নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলার রহমান বলেন, ‘আমার জীবন তো চলেই গেল। কিন্তু নাতি-নাতনিরা খুব দুর্ভোগে আছে। ওরা স্কুলে যায়।’
পিয়ারা খাতুন জানান, একটি সেতুর জন্য গত কয়েক বছরে পৌরসভার মেয়রের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছেন। সর্বশেষ গত ২৬ জুলাই পৌর প্রশাসকের কাছেও আবেদন করা হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে অপেক্ষার পর এবার অন্তত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সেতু চান তারা।
আরেক বাসিন্দা জোৎস্না খাতুন বলেন, ‘রিলিফ চাই না, ব্রিজ চাই। হাত-পা ভালো আছে, খাইটা খাইতে পারি। এটা আমার প্রাণের দাবি।’
সেতুর অভাবে শুধু চলাচল নয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও প্রভাব পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
বিউটি খাতুন বলেন, বাড়িঘরের উন্নয়ন করা যায় না। এমনকি বিয়ের উপযুক্ত ছেলে-মেয়ে থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থার দূরবস্থা দেখে অনেক সময় বিয়ের সম্পর্ক এগোয় না।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কাজিপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৩০০ মানুষের বসবাস। এখানে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চারটি মসজিদ রয়েছে। তবে পৌরসভার অন্যান্য এলাকার তুলনায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা কম বলে অভিযোগ তাদের।
কাজিপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম (লিটন) জানান, ‘টেকসই উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি অনুমোদন হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ চার দশকের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে।