গত সপ্তাহে যে রুই মাছ কিনেছি ৪০০ টাকা কেজি দরে, সেই মাছের দাম এ সপ্তাহে ৫০ টাকা কমেছে। রোববার কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মধুবাজারের ক্রেতারা।
মুদি দোকান ব্যবসায়ী আমু বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে দাম তুলনামূলক কম। তবে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে কিছু কমালে যে স্বস্তি আসে, সেটা আসলে স্বস্তি নয়, সহনশীলতা।
.png)
এ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে মাঝারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিতে। আর ছোট সাইজের ইলিশের জন্য কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।
গত সপ্তাহে প্রতিকেজি পাবদা ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও একই আকারের পাবদা এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়, গত সপ্তাহে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া রুইমাছ এ সপ্তাহে কেজিতে ৫০ টাকা কমে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে মাঝারি সাইজের রুইয়ের দাম নেয়া হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩২০ টাকা। আর ছোট সাইজের রুই কেজিপ্রতি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া কাতলার দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়।
দাম কমেছে সিলভার কার্প, টাটকিনি এবং পাঙ্গাসেরও। এ সপ্তাহে বড় সাইজের সিলভার কার্প প্রতি কেজি ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ আকারের মাছের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা কেজি। ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টাটকিনির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া চাষের কই কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি ২৪০ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পাঙ্গাস এ সপ্তাহে ১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে তেলাপিয়া মাছের।
গত সপ্তাহে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া তেলাপিয়া সপ্তাহ ঘুরে ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোয়াল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা কাশেম ভুইয়া বলেন, মাছের দাম সবসময় কমে-বাড়ে। স্থির থাকে না। দাম তো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। দাম নির্ধারণ হয় আড়তে। সেখানে দাম কমলেই আমরাও কিছু কম দামে বিক্রি করতে পারি।
এদিকে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিতে ভরপুর কাঁচাবাজার। এরমধ্যে সবচেয়ে দামি সবজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা কেজি। আর কাঁচামরিচের দাম ঠেকেছে ২০০ টাকায়। অন্যান্য সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় মিলছে। ৬০ টাকায় ঢেঁড়স পাওয়া গেলেও ক্রেতার পকেট পুড়ছে চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙেসহ অন্যান্য সবজিতে। ৭০-৮০ টাকার নিচে নেই অন্য কোনো সবজি।
এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম স্থানভেদে বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা। যেখানে দুই সপ্তাহ আগে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে। সোনালি ৪০০ এবং দেশি মুরগি কেজিপ্রতি ৬৪০ থেকে ৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের জাতীয় সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। একটি পণ্যে হাত বদলের কারণে উৎপাদিত মূল্য থেকে তিন গুণে দাঁড়াচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের উচ্চ মূল্যে কিনতে হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। মনিটরিং না থাকলে এসব থেকে রেহাই নেই।