খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কাপ্তান বাজার ও কারওয়ান বাজারে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে ১১ টাকা ৬০ পয়সায়। আর খুচরা বাজারে দাম ছিল ১২ থেকে ১৩ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম বর্তমানে ১৪৫ টাকার আশপাশে।
রায়ের বাজারে মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
.png)
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ডিমের দাম জানিয়ে দেয়। সেই অনুসারেই ব্যবসায়ীরা ডিম বিক্রি করে।
দোকানিদের অভিযোগ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে ডিম আসে। আগের রাতে ডিম পাঠিয়ে দেওয়া হলেও এর সঙ্গে কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। দাম জানানো হয় মুঠোফোনে। এর পাশাপাশি সম্প্রতি ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপেও ডিমের দাম জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে ডিমের বাজার এখন অস্থির।
গত ৮ মে পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম ছিল ৯ টাকা। পরের তিন দিনে তিন দফা দাম বেড়ে ৫ মে প্রতিটি মুরগির ডিম (লাল) বিক্রি হয় ১০ টাকা ৩০ পয়সা। পরের দুই দিন দাম ২০ পয়সা কমেছিল। তবে এরপর প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ পয়সা বেড়ে দাম ঠেকেছে ১১ টাকা ৬০ পয়সায়।
এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও দাম কমেনি খুচরা বাজারে। বরং বেশিদামে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বেশ কয়েকদিন আগেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে ভোজ্য তেল সয়াবিন (লুজ)। লিটার প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত দুইদিন আগেও ১৪৫ টাকা ছিল। তবে সয়াবিন (বোতল) ৫ লিটারের দাম কমে ৮১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি ধরে। এর আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা দরে।
টিসিবির হিসাবে, গত বছরের এই সময়ে বাজারে কেজিপ্রতি আলুর দাম ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা, অর্থাৎ এ বছর আলু দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।
টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে গত বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় দেশি পেঁয়াজ বর্তমানে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি রসুনসহ বেশকিছু মসলার দামও বেড়েছে। কেজিপ্রতি রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা দরে। আমদানিতেও দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২১০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ধনিয়া কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে। একই পরিস্থিতে চলছে সবজি, ডিম, মুরগি ও মাছসহ গরু-খাসির মাংসের বাজার।
রাজধানীর শিয়া মসজিদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোনো না কোনো পণ্যের দাম কিছুটা হলেও বেড়েছে। এতে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের মনে। তাদের দাবি, নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেখার নেই কেউ।
বাজারের অধিকাংশ সবজিই এখন ক্রেতার নাগালের বাইরে। বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বগুড়ার ১৫ টাকা কেজির পেঁপে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এসে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে। আর শসা ৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা ও কপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, তীব্র গরমে ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে সবজি। পাশাপাশি সেচ বাবদ বেড়েছে উৎপাদন খরচ। এর প্রভাবে বাড়ছে দাম।
এক সপ্তাহ আগেও এক ডজন লাল ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা, এখন তা ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় ভোক্তারা বলছেন, রাত পোহালেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
অস্থিরতা থামছে না মুরগির বাজারেও। গরমে মুরগি লালন-পালন ব্যাহত হওয়ার অজুহাত থেকে মুক্তি মিলছে না ক্রেতাদের। বাজারে ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, সোনালি ৩৮০ টাকা আর দেশি জাতের জন্য গুনতে হবে ৭০০ টাকা।
সবজিসহ ডিম-মুরগি বাজারের দামের উত্তাপ গ্রাস করেছে মাছ বাজারও। তিন দিনের ব্যবধানে তেলাপিয়া মাছ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। আমদানি জাতের বোয়ালের জন্য গুনতে হবে ৬০০ টাকা। হাইব্রিড কই আর রুই- কাতল বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩৫০ টাকার মধ্যে।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর বৃষ্টি কম হয়েছে। আর গরমের কারণে মাছ কম ধরা পড়ছে। এতে কমছে না মাছের দাম।
অন্যদিকে বাজারে যে যেভাবে পারছে পণ্যের দাম সেভাবে বাড়িয়ে বিক্রি করছে, এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। তাই তদারকি প্রতিষ্ঠানের জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান তাদের।