কমেছে চাল-সরু (নাজির/মিনিকেট), চাল- মাঝারি (পাইজাম/ লতা), আটা সাদা (খোলা), আটা (প্যাকেট), ডাল (নেপালি), মুগ ডাল (মানভেদে), পেঁয়াজ (আমদানি), রসুন (আমদানি) মানভেদে, শুকনা মরিচ (আমদানি), আদা (দেশি), হলুদ (দেশি), আদা (আমদানি), লবঙ্গ, খাসী, ডানো, ফ্রেশ, মার্কস, খেজুর (সাধারণ মান) এবং শসার দাম। অন্যান্য পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও রায়ের বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
.png)
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রফিক জানান, গত ৩-৪ দিন ধরে পাইকারি বাজার থেকে যে পরিমাণ সবজি কেনা হয়েছে, তা শেষ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, কেনা দামও উঠছে না। পচনশীল হওয়ায় কম দামে বিক্রি করে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে তাদের। গরম না কমলে এইভাবে ব্যবসা লাটে উঠবে বলে মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী।
ক্রেতা কমলেও দাম কমেনি যেসব নিত্যপণ্য দ্রব্যের বাজারে মরিচ ৬০ টাকা কেজি, শশা ৪০ টাকা, লেবুর হালি মানভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো কেজি ৪০ টাকা, পটল ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা ও পেঁপে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম চড়েছে আলু ও বেগুনের। প্রতি কেজি আলু ৫৫ টাকা ও বেগুন ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর কৃষিমার্কেটের সবজি বিক্রেতা জসীম বলেন, সার-বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার আলুর উৎপাদন খরচ বেড়েছে। যার প্রভাব খুচড়া বাজারে এসে পড়েছে। গরমে কৃষকদের বেগুনের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
এদিকে, গরমে মারা যাওয়ার ভয়ে দোকানে মুরগি কম তুলছেন ব্যবসায়ীরা। গরমের কারণে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। ৩-৪ দিন আগেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৩০-২৪০ টাকা দরে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা কেজি দরে।
মুরগি বিক্রেতা ফয়সাল বলেন, গরমে বাজারে ক্রেতার সমাগম কম। যে কারণে মুরগি কম বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা কম তাই দামও কম। এই তীব্র গরমের কারণে গত কয়েকদিনে দাম কমে গেছে।
তবে সোনালি ও দেশি মুরগির দামে কোনো হেরফের হয়নি। চড়া দামেই দেশি মুরগি ৬৮০ টাকা ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি।
এদিকে কৃষি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও ৫০-৬০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হতো। এখন ৭০-৮০ টাকা কেজিতে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ফল বিক্রেতা মো. কামাল বলেন, গরমে ১০০টির মধ্যে ২০টি তরমুজ পচে যায়। একেকটি ২৫০ টাকায় কেনা, এর মধ্যে ২০টিতে গুনতে হয় লোকসান। আনারসও ২০টির ভেতরে ৫টি পচে যায়। তাছাড়া গরমে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। কাস্টমার থাকলে বিক্রি হয়ে যেত। দোকান খরচ, কারেন্ট বিল, কর্মচারী খরচ তোলাই কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বস্তা প্রতি অন্তত ১০-২০ টাক বাড়তি দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে চালের সরবরাহ কম। পাইকারি বাজারে মোটা চাল (স্বর্ণা) রোজার আগে ৪২-৪৩ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম, বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও বিআর-৪৯) কেজি ৪৮-৫০ টাকা থেকে বেড়ে পাইকারিতে ৫৩-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আতপ চাল কেজিপ্রতি ৪২-৪৩ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু চালের কেজিপ্রতি দাম ৬৫-৬৭ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে।
অপরদিকে, মোটা চাল (স্বর্ণা) খুচরায় বিক্রয় হচ্ছে ৫৫-৫৬ টাকা। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম, বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও বিআর-৪৯) কেজি ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু চালের কেজিপ্রতি ৭০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে, যা রোজার শেষ দিকেও ৩-৪ টাকা কম দাম ছিল।
রায়ের বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির মালিক মাঈন উদ্দিন বলেন, ধানের সরবরাহ কম থাকায় দামও কিছুটা বেশি। অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে ধানের মজুত থাকলেও সরকারি পর্যায়ে চালের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার খবরে দাম ক্রমেই বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
তিনি বলেন, মণপ্রতি ধানের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে ভালো মানের ধান মণপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা ধান মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে নতুন ধান আসবে। এর আগে এমন সংকট আমাদের কাছেও অপ্রত্যাশিত।
এদিকে, বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে। ভারত থেকে আমদানি শুরু ও দেশীয় আলুর সরবরাহ বাড়ায় দাম নিম্নমুখী হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। দেশি কাটিনাল জাতের আলু পাইকারিতে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, কয়েকদিন আগে যা ছিল ৫৫ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি দেশি গুটি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ টাকা।
রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে এক কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। আদা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮০টাকায়। দেশি রসুনের কেজি ১৪০টাকা। আমদানি করা (চীনা) রসুনের দাম ১৮০টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা জানান, পাবনা, রাজবাড়ি ও ফরিদপুরের মতো শীর্ষ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোয় পণ্যটির দাম নিম্নমুখী। এক সপ্তাহ আগেও মনপ্রতি পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় লেনদেন হতো। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
এদিকে, প্রাণ কোম্পানি প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছে ৯২ টাকা কেজি। একইভাবে এরফান গ্রুপ এক কেজি চিনিগুড়া চাল প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছে ১৭৫ টাকায়, আকিজের এসেন্সিয়াল চিনিগুড়া চালের কেজি ১৭০ টাকা। তাদের বস্তার এই চালই খুচরা বিক্রেতারা ১২০-১৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন।
বাজারে খোলা মুড়ি ৮০ টাকা কেজি। সেই মুড়িই প্রাণ দ্বিগুণ দামে অর্থাৎ ৫০০ গ্রাম বিক্রি করছে ৮০ টাকা, স্কয়ারের ৪০০ গ্রামের রুচি মুড়ি ৬৫ টাকা। ভোক্তারা খোলা আটা ৪৫ টাকা কিনলেও স্কয়ার, তীর, বসুন্ধরা দুই কেজি আটা প্যাকেটজাত করে ১৩০ টাকা বিক্রি করছে। একইভাবে খোলা চিনি ১৪০ টাকা বিক্রি হলেও ফ্রেশ, তীরের প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা। সয়াবিন তেলও প্যাকেটজাত হলেই লিটারে ১৮ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। কারণ খোলা সয়াবিন তেল বাজারে ১৪৫ টাকা। তা প্যাকেটে ১৬৩ টাকা লিটার বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, কর্পোরেটরা প্যাকেটের নামে বেশি করে দাম আদায় করছে। এতে ভোক্তারাই বেশি ঠকছে। তারা ভোক্তাদের গলা কাটছে।
বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, বিক্রেতারা বস্তার মুড়ি ৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। স্কয়ারের ৪০০ গ্রাম রুচি মুড়ি ৬৫ টাকা ও প্রাণের ৫০০ গ্রাম মুড়ি ৮০ টাকা, খোলা মুড়ির কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে যেখানে ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ। কেজি ৪০ টাকার মতো। রাইস মিলে এই গম ভাঙাতে কেজিতে ৫ টাকা নেয়। সেই গমের আটা ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। কিন্তু সিটি গ্রুপের তীর, এসিআইয়ের দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা ১৩০ টাকা। এসব কোম্পানির গায়ে লেখা আছে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ১৩০ টাকা। খুচরা বিক্রেতারাও এসব দামে বিক্রি করছেন।
তারা বলছে, প্যাকেটের গায়ে দাম লেখা থাকার কারণে এখানে আমাদের কিছুই করার থাকে না।
খোলা আটা ৪৫ টাকা কেজি। দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৩০ টাকা। ফ্রেশসহ বিভিন্ন কোম্পানির খোলা চিনি ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। কিন্তু প্যাকেটজাতটা ১৪৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। অন্য পণ্যের মতো বিভিন্ন কোম্পানি প্যাকেটজাত সয়াবিন তেলও বিক্রি করছে। তবে খোলা তেলের চেয়ে লিটারে ১৮ টাকা বেশি। কারণ খোলা তেল ১৪৫ টাকা লিটার হলেও প্যাকেটজাত তেল ১৬৩ টাকা ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে।
গরু ও খাসির মাংসের বাজারে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা, যা ঈদে ছিল ৮০০-৮২০ টাকা পর্যন্ত। ঈদের সময় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া খাসির মাংস বর্তমানে প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা।