সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ও সমঝোতার লক্ষ্যে রাশিয়া শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা জানান।
.png)
অ্যাক্সিওসকে জেলেনস্কি বলেন, দীর্ঘ ও তীব্র শীত শুরুর আগে সংঘাতের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা মার্কিন দূতেরা তাকে জানিয়েছেন, ‘রাশিয়ানরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।’
এর আগে, ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ ও কুশনার। পরদিন তারা কিয়েভে গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
জেলেনস্কি বলেন, আলোচনায় জ্বালানি অবকাঠামো, শস্য পরিবহন এবং তেল-গ্যাস রপ্তানির মতো বিষয় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে শীতের আগে বা শীতকাল চলাকালে এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে, যা রাশিয়া ও ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনার আরও কাছে নিয়ে আসতে পারে।
একই সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য একটি সম্ভাব্য ‘উইন্টার প্যাকেজ’-এর কথাও আলোচনায় এসেছে, যার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহায়তা থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
তবে রাশিয়ার এই কথিত আগ্রহ নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক হামলা এখনো সমঝোতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বিশেষ করে শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে সরাসরি বা ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আয়োজনের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে আছে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত। সূত্র: রয়টার্স