বুধবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বেশ কয়েকদিন আগেও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ভোজ্য তেল সয়াবিন (লুজ) লিটার প্রতি ৫টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত দুইদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৪৫ টাকায়। তবে সয়াবিন (বোতল)৫ লিটারের দাম কমে ৮১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এর আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়।
.png)
টিসিবির হিসাবে, গত বছরের এই সময়ে বাজারে কেজিপ্রতি আলুর দাম ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা; অর্থাৎ এ বছর আলু দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।
টিসিবির হিসেবে অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে গত বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় দেশি পেঁয়াজ বর্তমানে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি রসুনসহ বেশকিছু মসলার দামও বেড়েছে। কেজিপ্রতি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। বিদেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা পর্যন্ত। ধনিয়া গুড়া কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
একই পরিস্থিতে চলছে সবজি, ডিম, মুরগি, মাছসহ গরু-খাসির মাংসের বাজার।
রাজধানীর শিয়া মসজিদ বাজার ঘুরে দেখা যায় কোনো না কোনো পণ্যের দাম কিছুটা হলেও বেড়েছে। এতে স্বস্তি নেই ক্রেতার মনে। তাদের দাবি, নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেখার যেন কেউ নেই।
বাজারের অধিকাংশ সবজিই এখন ক্রেতার নাগালের বাইরে। বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। বগুড়ার ১৫ টাকা কেজির পেঁপে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এসে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে। আর শসা ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, পটল ১০০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা ও কপি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, তীব্র গরমে ক্ষেতে নষ্ট হচ্ছে সবজি। পাশাপাশি সেচ বাবদ বেড়েছে উৎপাদন খরচ। এর প্রভাবে বাড়ছে দাম।
এক সপ্তাহ আগেও এক ডজন লাল ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা, অথচ সরবরাহ কমের অজুহাতে এখন তা ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় ভোক্তারা বলছেন, রাত পোহালেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অস্থিরতা থামছে না মুরগির বাজারেও। গরমে মুরগি লালন-পালন ব্যাহত হওয়ার অজুহাত থেকে মুক্তি মিলছে না ক্রেতাদের। বাজারে ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা, সোনালি ৩৮০ টাকা আর দেশি জাতের জন্য গুনতে হবে ৭০০ টাকা।
সবজিসহ ডিম-মুরগি বাজারের দামের উত্তাপ গ্রাস করেছে মাছ বাজারও। তিন দিনের ব্যবধানে তেলাপিয়া মাছ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। আমদানি জাতের বোয়ালের জন্য কেজিতে গুনতে হবে ৬০০ টাকা। হাইব্রিড কই আর রুই- কাতল বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩৫০ টাকার মধ্যে।
বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর বৃষ্টি কম হয়েছে। আর গরমের কারণে মাছ কম ধরা পড়ছে। এতে কমছে না মাছের দাম।
বাজারে যে যেভাবে পারছে পণ্যের দাম সেভাবে বাড়িয়ে বিক্রি করছে, এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। তাই তদারকি প্রতিষ্ঠানের জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান তাদের।