জিন্সের প্যান্ট বা শার্ট ধোয়ায় সঠিক নিয়মটি জানলে কষ্ট কমে যাবে
বর্তমান ফ্যাশনে নারী পুরুষ সবার পছন্দের তালিকায় জিন্সের প্যান্ট থাকবেই! প্রচলিত একটি ধারণা আছে, জিন্স হল শ্রমিকদের প্যান্ট। এক সময় খনিতে কাজ করতে আসা মানুষদের প্রতিদিন পরনের সুবিধার জন্যই এই ধরনের প্যান্ট বাজারজাত করা হয়।
তবে ডেনিমের ইতিহাস নিয়ে আরও এক ঘটনা প্রচলিত আছে। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি। এক কাঠুরে-বউ এলেন জেকব ডব্লিউ ডেভিস নামের এক দর্জির কাছে। জঙ্গলের কাঁটাগাছে প্রায়ই জামা ছিঁড়ে যায় তার স্বামীর। টানাটানির সংসারে ঘন ঘন জামা কেনার প্রশ্নই ওঠে না। তাই চাই টেকসই পোশাক। খরিদ্দারের আব্দারে দর্জির মাথায় খেলে গেল এক বুদ্ধি। তখন ফ্রান্সে সার্জ দে নিমে নামের এক ধরনের মোটা কাপড় পাওয়া যেত। সহজে ছেঁড়ে না। দামও সস্তা।
এমন কাপড় দিয়েই কাঠুরের জন্য প্যান্ট তৈরি করে দিলেন জেকব। তার বানানো এই প্যান্টের নাম ও গুণ ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগল না। নিমেষে বিক্রি হতে শুরু করল এমন সব প্যান্ট। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও জোগান দেয়ার মতো পর্যাপ্ত কাপড় নেই। তখন তিনি যোগাযোগ করলেন এই কাপড়ের হোলসেলার লেভি স্ত্রাউসের সঙ্গে। ইউএস পেটেন্ট বার হল ১৮৭৩-এ। এই সালকেই ব্লু জিনসের জন্মদিন হিসাবে ধরা হয়।
মূলত শ্রমিক-মজুররা এই প্যান্ট ব্যবহার করলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আমেরিকান সেনার পোশাক তৈরিতেও ব্যবহার শুরু হয় জিন্সের। আজও মূলত প্রতিদিনের পোশাক হিসেবেই জিন্সকে ব্যবহার করে থাকি আমরা। তাই এর জৌলুস সহজেই হারায়। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে বার বার ব্যবহারের পরেও জিন্স থাকবে নতুনের মতো। কাচার কিছু নিয়ম মানলেই ডেনিম থাকবে যত্নে। রইল সে সবের হদিশ।
জিন্স কাচার নিয়ম-
১. জিন্সের প্যান্ট বা শার্ট ধোয়ার জন্য ভরসা রাখুন ঠান্ডা পানিতে। গরম পানি কখনো ব্যবহার করবেন না।
২. অত্যধিক ক্ষারযুক্ত সাবানে জিন্স কাচবেন না। এতে এর রং ফিকে হয়। তাই ক্ষারযুক্ত সাবান বাদ দিয়ে মৃদু সাবানে ধুয়ে নিন জিন্স।
৩. কিছুক্ষণ সাবান-পানিতে ভিজিয়ে রাখুন জিন্স। তারপর হালকা করে ঘষে তুলে নিন এতে থাকা নোংরা।
৪. কাচাকুচির পর জিন্স নিংড়াবেন না। বরং টানটান করে পানি ঝরাতে মেলে দিন। খানিকক্ষণ পর রোদে দিয়ে শুকিয়ে ফেলুন।
৫. রং টেকসই করে রাখতে উল্টো করে রোদে শুকাতে দিন। কাচার সময়ও উল্টো করে কাচুন।
৬. জিন্স প্যান্টে পায়ের ফোল্ডে ময়লা জমে, তাই ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ঘষে নিন ফোল্ড।