ঢাকা,  শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

তানগানিকা হ্রদে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ৪১, নিখোঁজ অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তানগানিকা হ্রদে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ৪১, নিখোঁজ অনেকে
কঙ্গোর তানগানিকা হ্রদে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে তানগানিকা হ্রদে যাত্রীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তানগানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সঙ্গে পণ্যও ছিল।

বৃহস্পতিবার তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে কঙ্গোর কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নৌকাটি। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাপেরা গ্রামের কাছে তানগানিকা হ্রদে এটি ডুবে যায়।

Advertisement

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী অ্যানি মোয়োনি জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত রেডিও ওকাপিকে জানান, রাত ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগানো হয়। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। এরপর সেটি কীভাবে পুরোপুরি ডুবে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কঙ্গোর অনেক এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌপথ। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য নৌযানই অনেক সময় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সহজ ও তুলনামূলক কম খরচের মাধ্যম। তবে দেশটিতে নৌযান চলাচলে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা।

এপির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গোতে একাধিক নৌদুর্ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেক নৌযানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হয়। আবার কিছু নৌযানে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটও থাকে না। ফলে দুর্ঘটনার সময় প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কঙ্গো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ। দেশটির জনসংখ্যা ১০ কোটির বেশি হলেও সড়কসহ অন্যান্য যোগাযোগ অবকাঠামো অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষকে যাতায়াতের জন্য নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এক মাসে একই নৌপথে দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা

কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট কঙ্গোর একটি নৌযান কিগোমা বন্দরে জ্বালানি নেওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। পরে নৌযানটিতে বিস্ফোরণ ঘটে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রেডিও ওকাপি জানায়, ওই ঘটনায় নৌযানটির ছয় কর্মী মারা যান। আরও একজন নিখোঁজ হন। এমভি প্যাসিফিক নামের নৌযানটি কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত এবং মূলত জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো।

এর আগে গত জুলাইয়ে মধ্য কঙ্গোতেও নৌদুর্ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!