ঢাকা,  শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সেতু নির্মাণে অনিয়ম, এলজিইডির দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সেতু নির্মাণে অনিয়ম, এলজিইডির দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন সেতুর কাজে অনিয়মের অভিযোগে এলজিইডির দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিং তৈরিতে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়।

Advertisement

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণে নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তাঁরা খোরাকি বা ভরণপোষণ ভাতা পাবেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নির্মাণাধীন সেতুটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাইয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরিদর্শনকারীরা দেখতে পান, ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই নিম্নমানের এবং অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর রেলিং নির্মাণে ব্যবহৃত রডের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসার পর নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুই প্রকৌশলীর কাছে অনিয়মের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়নে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে এলজিইডির নোয়াখালী জেলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিত তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণের পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নোয়াখালী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!