পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ১ হাজার রুপি হওয়ার শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানেও পেট্রোলের দাম দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১ হাজার পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশটিতে জ্বালানির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেট্রোলের নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি লিটার ৩৮৯ দশমিক ১৪ পাকিস্তানি রুপি।
.png)
যেভাবে বেড়েছে পেট্রোলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই পাকিস্তানে পেট্রোলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। ১ মার্চ প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ২৬৬ দশমিক ১৭ রুপি। ৭ মার্চ তা বেড়ে ৩২১ দশমিক ১৭ রুপিতে পৌঁছায়। এরপর ৩ এপ্রিল দাম আরও বেড়ে ৪৫৮ দশমিক ৪১ রুপিতে ওঠে।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমলে পাকিস্তানেও দাম কমানো হয়। ২০ জুন প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম নেমে আসে ২৯৯ দশমিক ৫০ রুপিতে। এরপর আবার দাম বাড়তে শুরু করে। ১৯ সেপ্টেম্বর তা দাঁড়ায় ৩৮৯ দশমিক ১৪ রুপিতে।
ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটি (ওজিআরএ) আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, প্রিমিয়াম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করে পেট্রোলের মূল্য নির্ধারণ করে।
আমদানিনির্ভর জ্বালানি বাজার
পাকিস্তানে পেট্রোলের দামের ওপর আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বেশি। এর অন্যতম কারণ, দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তান ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টন মোটর স্পিরিট বা পেট্রোল আমদানি করেছে। একই সময়ে দেশটির স্থানীয় শোধনাগারগুলো প্রায় ২৬ লাখ ৩০ হাজার টন পেট্রোল সরবরাহ করে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রায় ৭৬ লাখ ৮০ হাজার টন পেট্রোল বিক্রি করেছে।
সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হওয়ায় এগুলোকে দেশের মোট পেট্রোল সরবরাহের সরাসরি ১০০ শতাংশ বিভাজন হিসেবে দেখা যায় না। তবে এতে আমদানিনির্ভরতার মাত্রাটি স্পষ্ট হয়।
পাম্পের দামে যুক্ত হয় কর-শুল্ক
পেট্রোলের পাম্প মূল্য শুধু আমদানি বা শোধনাগার পর্যায়ের খরচের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, তেল বিপণন কোম্পানির মার্জিন, ডিলার কমিশন এবং বিভিন্ন সরকারি লেভি যুক্ত হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর কার্যকর দামের হিসাবে শুল্কসহ আমদানি ও শোধনাগার পর্যায়ে পেট্রোলের মূল্য ছিল ২৭৮ দশমিক ৫৮ রুপি। এর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পরিবহন সমন্বয় মার্জিন ৭ দশমিক ৭১ রুপি, ওএমসি মার্জিন ৭ দশমিক ৮৭ রুপি এবং ডিলার কমিশন ৯ দশমিক ৯৮ রুপি যোগ হয়।
এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম লেভি ৮০ রুপি এবং ক্লাইমেট সাপোর্ট লেভি ৫ রুপি যোগ হওয়ায় চূড়ান্ত পাম্প মূল্য দাঁড়ায় ৩৮৯ দশমিক ১৪ রুপি।
ডলারের বিপরীতে দুর্বল রুপিও চাপ বাড়াচ্ছে
পেট্রোলের দাম বাড়ার আরেকটি কারণ পাকিস্তানি রুপির বিনিময়মূল্য। আমদানি করা জ্বালানির দাম সাধারণত মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় রুপির মান কমে গেলে একই পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পাকিস্তানকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পাকিস্তান সরকার ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে বিশেষ জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচিও চালু করেছে। এতে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ৮০০ সিসি পর্যন্ত ছোট গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়লে কিংবা সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে পাকিস্তানের পেট্রোলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। ১ হাজার রুপির সম্ভাব্য দামটি তার জ্বালানি সংকট দেখা দিলে প্রযোজ্য সতর্কবার্তা, বর্তমান দামের পূর্বাভাস নয়।