এদিকে শনিবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে চালানো এই হামলায় দখলদার ইসরায়েল ইরানের কোন কোন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে সেই তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
সংবাদমাধ্যমটি দুই ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলেছে, তেহরানের ইমাম খামেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাকা এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
.png)
এছাড়া ইসরায়েলি বিমানবাাহিনী হামলা চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অন্তত তিনটি মিসাইল ঘাঁটিতে।
অপরদিকে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে গোপন পার্চিন সামরিক ঘাঁটিতে, যা রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত। হামলায় ইসরায়েল যেসব ড্রোন ব্যবহার করেছে সেগুলোর মধ্যে অন্তত একটি ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। আর বাকি ড্রোনগুলো ইরান ভূপাতিত করতে সমর্থ হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে গোপন এই ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় একজন প্রকৌশলী নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।
এদিকে এই হামলার কারণে যেন উত্তেজনা না বাড়ে সেজন্য ইরানকে আগে থেকেই ইসরায়েল হামলার পরিকল্পনা জানিয়ে দেয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইরানের কাছে ইসরায়েল জানায় তারা কোথায় এবং কোন স্থাপনায় হামলা চালাবে।
সংবাদমাধ্যমটিকে একজন বলেছেন, ‘ইসরায়েলিরা ইরানিদের কাছে আগেই পরিষ্কার করে দেয় তারা মূলত কীসের ওপর হামলা চালাতে যাচ্ছে এবং কীসের ওপর হামলা চালাবে না।’
দখলদার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরানে ব্যালিস্টিক মিসাইল কারখানা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব মিসাইল দিয়েই গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলে বড় হামলা চালিয়েছিল তেহরান।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল ইরানকে হামলার পরিকল্পনা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি এই হামলার পর ফের পাল্টা হামলা চালানো হয় তখন ইসরায়েলও আবার হামলা চালাবে। যেটির মাত্রা হবে তীব্র এবং শক্তিশালী।
তবে এই হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে বলে জানিয়েছে তেহরান। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির একটি সূত্র। পাল্টা হামলা চালানোর জন্য ইরান প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব ইসরায়েল পাবে।’