ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

‘কে আমাকে বাবা বলে ডাকবে?’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:০৫, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
‘কে আমাকে বাবা বলে ডাকবে?’
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা লোকদের খুঁজে বের করতে বাসিন্দারা সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। ছবি - বিবিসি

বোমা হামলার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন আহমাদ আল-গুফেরি। তবে ওই বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছে তার পুরো পরিবার। গাজা শহরে বোমা হামলায় যখন গুফেরির ১০৩ আত্মীয় নিহত হয়, তখন বাড়ি থেকে ৫০ মাইল দূরে পশ্চিম তীরে আটকা পড়েছিলেন তিনি।

৭ অক্টোবর ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সময় তেল আবিবে একটি আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছিলেন গুফেরি। যুদ্ধ শুরুর কারণে তিনি আর নিজের পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরতে পারেননি। স্ত্রী শিরিনের সঙ্গে সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কথা বলেছিলেন গুফেরি।

গুফেরি বলেন, সে জানত যে সে মারা যাবে। সে আমাকে বলেছিল যে আমার সঙ্গে খারাপ কিছু করে থাকলে তার জন্য তাকে ক্ষমা করতে। আমি তাকে বলেছিলাম, এটি বলার দরকার নেই। এটিই ছিল আমাদের মধ্যে শেষ কল।

Advertisement

 আহমদ তার তিন মেয়ে  তালা, লানা এবং নাজলার সঙ্গে। ছবি- বিবিসি

ওই দিন সন্ধ্যায় তার মামার বাড়িতে বোমা হামলায় গুফেরির স্ত্রী এবং তার তিন কন্যা - তালা, লানা এবং নাজলা নিহত হয়। বোমা হামলায় গুফেরির মা, তার চার ভাই এবং তাদের পরিবার, সেইসাথে তার কয়েক ডজন খালা, চাচা এবং চাচাত ভাই নিহত হয়। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা শতাধিক। দুই মাস পার হয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে তাদের কিছু লাশ আটকে আছে।

গুফেরি বলেন, আমার মেয়েরা আমার কাছে ছোট পাখি। আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্নের মধ্যে আছি। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমাদের কী হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিন অসংখ্য ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজারে পৌঁছে গেছে।

এই বাড়িতেই বিমান হামলা চালিয়ে আহমদের পরিবারকে হত্যা করা হয়

পরিবারের সদস্যদের নিহতের খবরে গুফেরি এতোটা ভেঙে পড়েছেন যে, তিনি আর নিজের শহরে ফিরে যাননি। অবশ্য তিনি এখনো মাঝে মাঝে গাজায় তার বেঁচে থাকা আত্মীয়দের ফোন করেন।

গুফেরি বলেন, গাজায় আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। আমি কার জন্য ফিরে যাব? কে আমাকে বাবা বলে ডাকবে? কে আমাকে প্রিয়তম বলে ডাকবে? আমার স্ত্রী আমাকে বলতেন আমি তার জীবন ছিলাম। এখন আমাকে কে বলবে?
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!