কাস্সাম ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ আল-জাইফ, যিনি খুব কমই মিডিয়ার সামনে আসেন তিনি এই আক্রমণের নামকে 'আল-আকসা ফ্লাড' নামে অভিহিত করে বলেছেন।
আল-আকসা মসজিদে উগ্র ইহুদিদের ক্রমাগত আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। উগ্র ইহুদিদের আল আকসা মসজিদ অবমাননার বিরুদ্ধে এটিই ছিল ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া। ফিলিস্তিনিদের এ অভিযানে ইসরায়েল কার্যত হতভম্ব হয়ে গেছে।
.png)

ফিলিস্তিনিরা এমন সময় 'আল-আকসা ফ্লাড' নামের এ অভিযান চালিয়েছে যখন তাদের অভিযান চালানোর ইচ্ছার কোনো আলামতই পাওয়া যায়নি। আচমকা আক্রমণে ইসরায়েল এমন ভয়াবহ রকমের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।
গত ৭৫ বছরে দখলদারিত্বের ইতিহাসে এটি ছিল ফিলিস্তিনিদের কাছে ইসরায়েলিদের জন্য বড় ধরনের সামরিক পরাজয়। ফিলিস্তিনিদের নজিরবিহীন এ অভিযানে নিহত ইসরায়েলির সংখ্যা ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই অভিযানে আহত হয়েছে আরো ১,৫৯০ ইহুদিবাদী।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, এতবড় এ ঘটনায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেননা ফিলিস্তিনিরা আকাশ ও স্থল পথে এ অভিযান চালিয়েছে। একইসঙ্গে তারা বিভিন্ন টানেলও ব্যবহার করেছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিরা মেরকাভা ট্যাঙ্কসহ প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে যেসব অস্ত্রের কারণে ইসরায়েল গর্ব করতো। ফিলিস্তিনিরা অন্তত ৫০ জন ইসরায়েলিকে আটক করেছে। এরইমধ্যে এক জেনারেলসহ বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি সেনাও রয়েছে। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে ইসরায়েলের ব্যয়বহুল আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ সময় অচল ছিল এবং ফিলিস্তিনের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সহজে আকাশসীমা অতিক্রম করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
_1696755610.webp)
তবে, ফিলিস্তিনিদের রকেট হামলার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, গাজা উপত্যকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ইসরায়েলের ভিতরে বিশাল এলাকায় বিপুল সংখ্যক হামাস সদস্য ঢুকে পড়ে তারা কিছু সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তারা কয়েক ডজন ইসরায়েলি সেনাকে বন্দী করা ছাড়াও সাঁজোয়া যান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দখল করে এবং সেগুলোকে গাজায় ফিরিয়ে এনে এলাকার রাস্তায় প্রদর্শন করে।
'আল-আকসা ফ্লাড' অভিযানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা এখানে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে 'স্মার্ট পরিকল্পনা' ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ এমন সময় এ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করা হয় যখন ইহুদিরা ঐতিহ্যবাহী 'সুকোত' উৎসব পালনে ব্যস্ত এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। অভিযান পরিচালনায় আকাশ, জল ও স্থলপথ ব্যবহার করা হয়েছে। হামাস বাহিনী কয়েক ডজন ইসরায়েলি সেনাকে বন্দী করার পর জানিয়েছে তেল আবিব যদি তাদের মুক্ত করতে চায় তাহলে অবশ্যই শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকেও মুক্তি দিতে হবে।

এমন সময় ফিলিস্তিনিরা এ সফল অভিযান চালিয়েছে যখন ইসরায়েল ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সরকার ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছে। তবে কোনো কিছুই ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সূত্র: পার্সটুডে, বিবিসি, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান