সংবাদমাধ্যমকে তিনি প্রথমে বলেছিলেন, ‘আমি এখানে ঘুরতে ও বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছি মাত্র। আর কোনো ব্যাপার নেই। আমার সঙ্গে সীমার যে তুলনা করা হচ্ছে, তা খুবই ভুল। আমি দু’চারদিনের মধ্যেই ফিরে যাব।’
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার জেলা এবং দায়রা আদালতের বিচারকের সামনে আইনি মতে বিয়ে সেরেছেন ভারতের ৩৪ বছরের নারী অঞ্জু এবং তার পাকিস্তানি প্রেমিক তথা ফেসবুক বন্ধু নাসরুল্লা।
.png)
আপার দির জেলার মোহাররর সিটি থানার সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ ওয়াহাব জানিয়েছেন, ‘নাসরুল্লাহ এবং অঞ্জুর বিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে যথাযথভাবে বিবাহ হয়েছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, নাসরুল্লাহর পরিবারের সদস্য, পুলিশ কর্মী ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে দু’জনেই দির বালার জেলা আদালতে হাজির হন।
মালাকান্দ বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল নাসির মেহমুদ সাট্টি জানিয়েছেন, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর অঞ্জুর নতুন নাম হয়েছে ফতিমা।
তিনি আরো জানান, অঞ্জুকে পুলিশি নিরাপত্তায় আদালত থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার, নসরুল্লাহ এবং অঞ্জু দু’জনেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তারা দির এবং চিত্রাল জেলার সংযোগকারী লাওয়ারি টানেল দেখতে গিয়েছিলেন। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ভিডিওতে পরস্পরের হাতে হাত রেখে ঘুরে দেখা দিয়েছিল যুগলকে। সেখান থেকেই রাজস্থানের বধূ, ২ সন্তানের মা অঞ্জু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তিনি পাকিস্তানে নিরাপদেই রয়েছেন।
তার কথায়, ‘আমি কাউকেই কিছু জানিয়ে আসিনি। আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম আমি জয়পুরে যাচ্ছি ঘুরতে।’
সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা সীমার মতো বেআইনিভাবে পাকিস্তানে যাননি অঞ্জু। তিনি বলেন, ‘সমস্ত নিয়ম মেনেই পাকিস্তানে এসেছি। এখানে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই এসেছি আর ঘোরার জন্য।’
কীভাবে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি জেলা থেকে পাকিস্তানে পৌঁছে গেলেন অঞ্জু? তার কথায়, ‘প্রথমেই গ্রাম থেকে আমি দিল্লি আসি। তারপর সেখান থেকে অমৃতসর। তারপর ওয়াঘা বর্ডার পেরিয়ে ঢুকে পড়ি পাকিস্তানে।’
পাকিস্তানে এক বন্ধুর বাড়িতেই থাকছেন বলে জানিয়েছিলেন অঞ্জু। দু’বছর আগে সেই বন্ধুর সঙ্গে তার আলাপ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই বন্ধুর বাড়িতেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেছেন বলে দাবি করেছিলেন অঞ্জু। নসরুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এমন কোনও ব্যাপার নয়। আমি সীমা হায়দার নই।’
কিন্তু স্বামীকে না জানিয়ে যাওয়ার কারণ কী ছিল অঞ্জুর? সেই প্রশ্নের উত্তরে ভারতীয় বধূ বলেন, ‘আমরা স্বামীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক প্রথম থেকেই ভাল ছিল না। কিছু পরিস্থিতির কারণেই একসঙ্গে থাকছি মাত্র আমরা। আমি আমার সঙ্গে আমার ভাই ও ভাবীকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি।’
তবে ভারতে ফিরে আর স্বামীর সংসারে উঠবেন না অঞ্জু। সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন তিনি।
কিন্তু সেই দাবি মতো ভারতে আর ফিরলেন না অঞ্জু। রয়ে গেলেন পাকিস্তানেই।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াল