শনিবার (২২ এপ্রিল) রাজধানী টোকিওর সেনসোজি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটিতে দু’জন পূর্ণবয়স্ক সুমো কুস্তিগির মুখোমুখি দুটি শিশুকে তুলে ধরেন। কুস্তিগিরেরা এ সময় শিশুগুলোকে ঝুলিয়ে-ঝাঁকিয়ে কাঁদানোর ব্যবস্থা করেন। মাত্র হাঁটতে শিখেছে—এমন শিশুরাই এই খেলায় অংশ নিতে পারে।
.png)
জেনতারো নামের একটি শিশুর মা তোমোয়ো ওয়াতানাবে বললেন, ‘আমার ছেলে একদম শুরু থেকেই কাঁদছে। কিছুটা খারাপ লাগলেও আমি তাকিয়ে দেখেছি আর প্রার্থনা করেছি, যেন ছেলেটা এই অনুষ্ঠানের পর থেকে সুস্থ ও শক্তিশালীভাবে বেড়ে ওঠে।’
আরো পড়ুন>> পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে লেখিকাকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প!
জাপানের বিভিন্ন মন্দিরে এই ‘কান্নার সুমো’ হয়ে থাকে। মা-বাবা ও দর্শনার্থীরা এই প্রতিযোগিতা দেখে বিমল আনন্দ পান।
পুরোহিত হিরোয়ুকি নেগিশি বলেন, শিশুদের এই কান্না শুনে অশুভ শক্তি পালিয়ে যায় বলেই বিশ্বাস চালু আছে। এতে শিশুরা বিভিন্ন সংকট থেকে রেহাই পায়।
এই প্রতিযোগিতা ৪০০ বছরের বেশি পুরোনো। অঞ্চলভেদে নিয়মের হেরফের আছে। কয়েকটি জায়গায় মা-বাবারা চান, তাদের সন্তানই যেন প্রথম কাঁদে। আবার কোনো কোনো এলাকার অভিভাবকেরা মনে করেন, প্রথমে কাঁদলে শিশুর অপ্রাপ্তির আশঙ্কাই বেশি থাকে।
আরো পড়ুন>> অপহৃত ছেলেকে উদ্ধারের দাবিতে ৭০ স্কুল শিক্ষার্থীকে জিম্মি!
শিশুদের মা-বাবা ও দাদা-দাদিরা উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা দেখেন। প্রথমে তারা শিশুদের একটা বেদিতে নিয়ে যান। সেখানে পুরোহিত ওই শিশুদের ‘শুদ্ধ’ করে দেন। তারপর এক জোড়া শিশুকে সুমোর মঞ্চে নেয়া হয়। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার আগেই বেশির ভাগ শিশু চিৎকার জুড়ে দেয়।
আসাকুসা ট্যুরিজম ফেডারেশন এই বেবি সুমোদের কান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
আসাকুসা ট্যুরিজম ফেডারেশনের চেয়ারম্যান শিগেমি ফুজি বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন, শিশুদের এমনভাবে কাঁদানো ভয়ানক বিষয়। তবে জাপানে, আমরা বিশ্বাস করি, যে শিশু যত জোরালোভাবে কাঁদবে, সে তত সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান