ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

শিশুদের কান্না প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬:২৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৩
শিশুদের কান্না প্রতিযোগিতা
ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ঐতিহ্যবাহী 'বেবি সুমোস ক্রাই' প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় ৬৪ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। জাপানি বাবা-মায়েরা বিশ্বাস করেন যে এই উপলক্ষে কান্নাকাটি তাদের বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্য বয়ে আনবে।

শনিবার (২২ এপ্রিল) রাজধানী টোকিওর সেনসোজি মন্দিরে ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে দু’জন পূর্ণবয়স্ক সুমো কুস্তিগির মুখোমুখি দুটি শিশুকে তুলে ধরেন। কুস্তিগিরেরা এ সময় শিশুগুলোকে ঝুলিয়ে-ঝাঁকিয়ে কাঁদানোর ব্যবস্থা করেন। মাত্র হাঁটতে শিখেছে—এমন শিশুরাই এই খেলায় অংশ নিতে পারে।

Advertisement

জেনতারো নামের একটি শিশুর মা তোমোয়ো ওয়াতানাবে বললেন, ‘আমার ছেলে একদম শুরু থেকেই কাঁদছে। কিছুটা খারাপ লাগলেও আমি তাকিয়ে দেখেছি আর প্রার্থনা করেছি, যেন ছেলেটা এই অনুষ্ঠানের পর থেকে সুস্থ ও শক্তিশালীভাবে বেড়ে ওঠে।’

আরো পড়ুন>> পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে লেখিকাকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প!

জাপানের বিভিন্ন মন্দিরে এই ‘কান্নার সুমো’ হয়ে থাকে। মা-বাবা ও দর্শনার্থীরা এই প্রতিযোগিতা দেখে বিমল আনন্দ পান।

পুরোহিত হিরোয়ুকি নেগিশি বলেন, শিশুদের এই কান্না শুনে অশুভ শক্তি পালিয়ে যায় বলেই বিশ্বাস চালু আছে। এতে শিশুরা বিভিন্ন সংকট থেকে রেহাই পায়।

এই প্রতিযোগিতা ৪০০ বছরের বেশি পুরোনো। অঞ্চলভেদে নিয়মের হেরফের আছে। কয়েকটি জায়গায় মা-বাবারা চান, তাদের সন্তানই যেন প্রথম কাঁদে। আবার কোনো কোনো এলাকার অভিভাবকেরা মনে করেন, প্রথমে কাঁদলে শিশুর অপ্রাপ্তির আশঙ্কাই বেশি থাকে।

আরো পড়ুন>> অপহৃত ছেলেকে উদ্ধারের দাবিতে ৭০ স্কুল শিক্ষার্থীকে জিম্মি!

শিশুদের মা-বাবা ও দাদা-দাদিরা উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতা দেখেন। প্রথমে তারা শিশুদের একটা বেদিতে নিয়ে যান। সেখানে পুরোহিত ওই শিশুদের ‘শুদ্ধ’ করে দেন। তারপর এক জোড়া শিশুকে সুমোর মঞ্চে নেয়া হয়। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার আগেই বেশির ভাগ শিশু চিৎকার জুড়ে দেয়।

আসাকুসা ট্যুরিজম ফেডারেশন এই বেবি সুমোদের কান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

আসাকুসা ট্যুরিজম ফেডারেশনের চেয়ারম্যান শিগেমি ফুজি বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন, শিশুদের এমনভাবে কাঁদানো ভয়ানক বিষয়। তবে জাপানে, আমরা বিশ্বাস করি, যে শিশু যত জোরালোভাবে কাঁদবে, সে তত সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
ট্যাগ: জাপান শিশু
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!