এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী নারী প্রাবন্ধিকের নাম ই জিন ক্যারল। তার অভিযোগ, ৯০ এর দশকে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর তাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে উপহাসও করেছিলেন ট্রাম্প।
গত মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ করেন বিশিষ্ট ওই লেখিকা। তবে ট্রাম্পের এক আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ক্যারল অর্থ ও খ্যাতি লাভের জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন।
.png)
এদিকে ক্যারল মামলার শুনানিতে সাক্ষী দেয়ার আগে ওই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের তখনকার ম্যানেজার শেরিল বেল সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আরো পড়ুন>> অপহৃত ছেলেকে উদ্ধারের দাবিতে ৭০ স্কুল শিক্ষার্থীকে জিম্মি!
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৯ বছর বয়সী ক্যারল শুনানিতে বলেছেন, ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউতে একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে তাকে যৌন নির্যাতন করেন ট্রাম্প। ওই সময় ট্রাম্প নারীদের অন্তর্বাস উপহার দেয়ার বিষয়ে তার পরামর্শ চাওয়ার নাম করে ক্যারলকে ডেকে নেন। পরে একটি ট্রায়াল রুমে (পোশাক পরিবর্তন করার কক্ষ) ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানেই তাকে ধর্ষণ করেন।
ক্যারলের আইনজীবী শন ক্রাউলি আদালতকে বলেন, ট্রায়াল রুমে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর ক্যারলের সঙ্গে জবরদস্তি শুরু করেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারেননি ক্যারল।
মঙ্গলবার ক্যারল নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালে এই বিষয়ে সর্বপ্রথম নিউইয়র্কের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ক্যারল।
ক্যারল আদালতকে বলেন, আমি এখানে এসেছি, কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে ধর্ষণ করেছেন। আমি যখন এটা নিয়ে লেখালেখি করেছিলাম, তখন তিনি (ট্রাম্প) তা অস্বীকার করেছেন, মিথ্যা বলেছেন।
আরো পড়ুন>> ভারতে মাওবাদীদের হামলায় ১০ পুলিশ নিহত
ক্যারল আরো বলেন, ট্রাম্প ওই ঘটনা দিনের পর দিন অস্বীকার করে আমার মানহানি করেছেন। আমি এখানে আমার জীবন ফিরে পেতে এসেছি। আমি সেই চেষ্টাই করছি।
আদলতে ক্যারল কিভাবে ট্রাম্প কর্তৃক ধর্ষিত হয়েছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেন, ক্যারল মিথ্যা কথা বলছেন। এমনকি তার (ক্যারলের) সঙ্গে কখনও দেখাই হয়নি বলে জানান ট্রাম্প। এরপরই ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ওই লেখিকা। কিন্তু ঘটনার অনেকদিন অতিক্রান্ত হওয়ায় ধর্ষণের মামলা করতে পারেননি। তবে গত বছরের নভেম্বরে নিউইয়র্কে একটি নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন ক্যারল।