তানজিম সাইয়ারা তটিনী এখন পরিচিত এক নাম নাটকের দুনিয়ায়। নিয়মিত কাজ করছেন, নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে ভাঙছেন, আর প্রতিটি নতুন কাজের সঙ্গে যেন দর্শকের প্রত্যাশার জায়গাটাও আরও বড় হচ্ছে। মোস্তফা কামাল রাজের ‘পথহারা মন’ দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।
নাটকটি এখন অ্যামাজন প্রাইমেও দেখা যাচ্ছে। তবে জনপ্রিয়তার এ সময়ে দাঁড়িয়ে তটিনীর কাছে সাফল্যের সংজ্ঞাটা একটু অন্যরকম। তার কাছে কোনো নাটকের মিলিয়ন ভিউয়ের চেয়ে গল্প, চরিত্র এবং কাজটি কতটা ভালোভাবে করা হলো, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে ইউটিউবের ভিউ সংখ্যা অনেকটা হয়ে উঠেছে নাটকের জনপ্রিয়তা মাপার অন্যতম মানদণ্ড। কিন্তু এই সংখ্যার হিসাবকে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না তটিনী।
.png)
তার বিশ্বাস, দর্শক কতজন দেখেছেন- তার পাশাপাশি তারা কী দেখেছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এই ভাবনাটা তার কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। ‘পথহারা মন’ দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার পেছনে তটিনী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন গল্পকে। তিনি বলেন, ‘নাটকটির গল্পের সঙ্গে মানুষ সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর জাহিদ হাসানের ফিকশনে ফেরা দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে।’ পারিবারিক গল্পের নাটক এখন নিয়মিতই নির্মিত হচ্ছে। ‘তোমাদের গল্প’-এর সাফল্যের পর এই ধরনের গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহও বেড়েছে। কিন্তু একই ধরনের গল্প হলেই যে দর্শক তা গ্রহণ করবেন, এমনটা মনে করেন না তটিনী। তার মতে, গল্পকে দর্শকের কাছে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটাই আসল।
আর এখানেই একজন নির্মাতার নিজস্বতা গুরুত্বপূর্ণ। রাজের কাজের ক্ষেত্রে সেই নিজস্ব প্যাটার্নই দর্শকের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করে বলে মনে করেন তিনি। তটিনীর নিজের ক্যারিয়ারেও গল্প ও চরিত্রের গুরুত্ব কম নয়। ‘তোমাদের গল্প’-এর শালু তার অভিনয়জীবনের অন্যতম মাইলস্টোন। এর বাইরে ‘সুহাসিনী’র আলো, ‘হৃদয়ের গভীরে’র রাহা, ‘সময় সব জানে’র ইরা এবং ‘কাজল চোখের মেয়ে’র কাজল—এই পাঁচ চরিত্রকে বিশেষভাবে মনে রেখেছেন তিনি। প্রতিটি চরিত্র তাকে আলাদা কিছু শিখিয়েছে, দিয়েছে নতুন অভিজ্ঞতা।
অর্থাৎ জনপ্রিয়তার হিসাবের বাইরে চরিত্রের ভেতর দিয়ে অভিনেত্রী হিসেবে বেড়ে ওঠাটাই তার কাছে বেশি মূল্যবান। নাটকের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও কাজ করেছেন তটিনী। ‘জয়া আর শারমিন’-এ ছোট একটি চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। তবে সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো নেই তার। একাধিক প্রস্তাব এলেও সেগুলোর কোনোটিই তাকে যথেষ্ট আকৃষ্ট করেনি। কারণ, বড় পর্দায় পা রাখার ক্ষেত্রে তিনি গল্প ও চরিত্রকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
বরং এমন একটি চরিত্রের অপেক্ষায় আছেন, যেটি দর্শকের মনে তার জন্য তৈরি হওয়া প্রত্যাশাকে আরও বাড়াবে। এমন কাজ করতে চান, যেটি দেখে দর্শক বলবেন- এই চরিত্রে তটিনীকে দেখার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। তার এ কথার মধ্যেই যেন বর্তমান ক্যারিয়ার নিয়ে তার দর্শনটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
জনপ্রিয়তা তাকে ব্যস্ত করেছে, দর্শকের ভালোবাসা তাকে পরিচিত করেছে; কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটে নিজের কাজের মানের সঙ্গে আপস করতে চান না তটিনী। ভিউ আসবে, জুটি তৈরি হবে, নতুন প্ল্যাটফর্মে কাজ হবে, এসবের সবই ক্যারিয়ারের অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকের মনে থেকে যায় গল্প ও চরিত্র। আর সেখানেই নিজের জায়গাটা তৈরি করতে চান এই অভিনেত্রী।