ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সেই শিশুকে দত্তক নিল যে দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৩২, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সেই শিশুকে দত্তক নিল যে দম্পতি
ফুফা খলিল আল-সাওয়াদীর কোলে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সেই শিশু - ফাইল ছবি

শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি ভবনের ধ্বসস্তূপের নিচে জন্ম হয় ছোট্ট এক ফুটফুটে মেয়ে শিশুর। তার পরিবার যে বাড়িতে বসবাস করত ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সেটি ধসে পড়ে।

ওই বাড়ির নিচে চাপা মরে মারা যায় শিশুটির বাবা-মা, ভাই বোন সবাই। কিন্তু অলৌকিকভাবে সেই ধসে পড়া ভবনের নিচেই তার জন্ম হয়।

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জন্মের আগেই পুরো পরিবার হারানো ওই শিশুটিকে এখন দত্তক নিয়েছেন তার ফুফু এবং ফুফা। তাদের কাছেই এখন বেড়ে উঠবে সে।

Advertisement

শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন তাকে নিয়ে দৌড়ে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে যাচ্ছেন। ওই সময় জানা যায়, উদ্ধারকারীরা যখন শিশুটিকে উদ্ধার করেন তখনও সে তার মায়ের নাড়ির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

আরো পড়ুন>> বিয়ের খুশিতে ছাদ থেকে ফেলা হলো লাখ লাখ টাকা!

পরবর্তীতে জানা যায়, শিশুটির বাবার নাম আব্দুল্লাহ এবং মায়ের নাম আফরা ম্লেইহান। যারা ভূমিকম্পে তাদের বাকি সব সন্তানসহ নিহত হয়েছেন।

সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটিকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত উত্তর আফরিন বিভাগের জিহান হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। নিকটাত্মীয়রা আসার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিল সে।

হাসপাতাল থেকে গতকাল শনিবার শিশুটির ফুফা খলিল আল-সাওয়াদী এবং ফুফু হালা তাকে নিয়ে আসেন। শিশুটির মৃত মা ‘আফরার’ নাম অনুসারেই তারা তার নামকরণ করেছেন।

আরো পড়ুন>> তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়াল

শিশুটির ফুফা বলেছেন, ‘এই মেয়েটি আমাদের কাছে অনেক কিছু। কারণ এ শিশুটির পাশে তার পরিবারের কেউ নেই। সে আমার কাছে, তার ফুফুর কাছে এবং এই গ্রামের তার বাবা-মায়ের সব আত্মীয়দের কাছে একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

ফুফা খলিল আল-সাওয়াদী দেখা যায় এক হাতে ‘আফরাকে’ একটি গোলাপী রঙের কম্বলে এবং অপর হাতে তার নিজের ছোট্ট মেয়ে আতাকে একটি নীল রঙের কম্বলে মুড়িয়ে ধরে রেখেছেন। তার নিজ মেয়ে আতা ভূমিকম্পের তিনদিন পর জন্ম নেয়। তিনি জানিয়েছেন, দু’জনকেই একসঙ্গে লালন-পালন করবেন তিনি।

খলিল জানিয়েছেন, শিশুটিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার আগে কিছু আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!