জেলেনস্কি সতর্কতা জারি করে বলেন, রাশিয়াকে কোনো অঞ্চল ছেড়ে দেওয়া মানে দেশটিকে আবার ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘এটা আপসের কথা নয়। আমরা কেন আপস করতে ভয় পাব? প্রতিদিনের জীবনে আমাদের অনেক আপস করে চলতে হয়। প্রশ্নট হলো, আপসটা কাদের সঙ্গে? পুতিনের সঙ্গে? না। কারণ, সেখানে বিশ্বাস নেই। পুতিনের সঙ্গে আলোচনা? না। কারণ, বিশ্বাস নেই।’
.png)
আরো পড়ুন>> ভূমিকম্পের ১১ দিন পর শিশুসহ ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, রাশিয়া বসন্তে হামলার যে আভাস দিয়েছিল, তা এর মধ্যেই শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন, পাল্টা হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা যত দিন আছে, তত দিন ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়াকে প্রতিহত করতে পারবে। তিনি আরো বেশি সামরিক সহায়তার জন্য পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবিসি’কে জেলেনস্কি বলেন, আধুনিক অস্ত্র শান্তির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। রাশিয়া কেবল অস্ত্রের ভাষা বোঝে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। তিনি ইউক্রেনের সুরক্ষার জন্য আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন>> ব্যাংকে গ্রাহকদের হামলা, ধরালেন আগুনও
তবে পশ্চিমারা ধীরগতিতে অস্ত্র দেওয়ায় কিয়েভের হতাশা বাড়ছে। গত মাসে ইউক্রেনে যুদ্ধের ট্যাংক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বলেছে ট্যাংকগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছাতে আরো কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।
সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বেলারুশের হুমকির কথাও বলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, বেলারুশের নেতা আলেকজান্দার লুকাশেঙ্কো হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি একজন ইউক্রেনের সেনাও সীমান্ত পার হয়ে তার দেশের সীমায় ঢুকে পড়ে, তাহলে তিনি যুদ্ধ শুরু করবেন।
এই হুমকির কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি আশা করি, বেলারুশ যুদ্ধে যোগ দেবে না। যদি বেলারুশ এমনটা করে, তাহলে আমরা লড়াই করব। আমরা টিকে থাকব।’ হামলার জন্য রাশিয়া যদি বেলারুশকে ব্যবহার করে তাহলে বড় ভুল করবে বলেও মন্তব্য করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।
আরো পড়ুন>> ইউক্রেনের হয়ে লড়তে আইএস জঙ্গিদের পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ নামে এই যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। বিগত এই এক বছরে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি অঞ্চল দখলে নিয়েছে রুশ বাহিনী। এর মধ্যে লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, ঝাপোরিজিয়া ও খেরসন অন্যতম। গণভোটের মাধ্যমে এসব অঞ্চল নিজেদের ভূখণ্ডে একীভূত করে নিয়েছে রাশিয়া।
শুধু তাই নয়, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তি রাশিয়ার আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়েছে ইউক্রেন। অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সংকটে পড়েছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশটি।
তবে এখনও রুশ বাহিনী কর্তৃক দখলকৃত ওইসব অঞ্চল পুনরুদ্ধার জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।