ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক আমলসমূহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৪৫, ২৬ জুন ২০১৯
দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক আমলসমূহ
ফাইল ফটো

মুমিন মুসলমানের প্রতিটি কাজ-কর্ম আল্লাহর কাছে ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। ইসলামে ইবাদতের পরিধি সীমাহীন বিস্তৃত।  

তবে শর্ত হলো, আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ও রাসূল (সা.) এর সুন্নত পদ্ধতিতে হতে হবে। সব ধরনের নেক আমল বা ইবাদত কী কী- সংক্ষিপ্ত পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

কোন কোন ধরনের ইবাদত রয়েছে এবং কীভাবে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ করলেও ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে- তা জানার জন্য ইমাম মুনজিরির লিখিত ‘আত-তারগিব ওয়াত তারহিব’ পড়া যেতে পারে। তবে কোনো বিজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন সম্ভব হলে অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যায়।

Advertisement

আরো পড়ুন>>> কোরআন সংকলনের ইতিহাস (পর্ব- ২)

এছাড়াও ইমাম নববি (রহ.) কর্তৃক সংকলিত অনবদ্য হাদিসগ্রন্থ ‘রিয়াদুস সালেহিন’ও অধ্যয়নে থাকতে পারে। বিশেষত রিয়াদুস সালেহিনের ‘ফাযায়েল অধ্যায়’ একজন মুমিনের জন্য অসাধরণ ও চমৎকার জীবনযাপনের রসদ যোগাবে। গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ রয়েছে বেশ কয়েকটি। শায়খ আবু বকর আল-জাজায়েরির ‘মিনহাজুল মুসলিম’ গ্রন্থটিও অন্যন্য। এটি একজন মুমিনের পার্থিব জীবনকে গোছালো, শৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চমৎকার দিক-নির্দেশক।

দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক আমল করার ক্ষেত্রে পাঠকের অন্তত কিছুটা হলেও ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ন্যূনতম কিছু আমলের সূচি বর্ণনা করা হলো।

দৈনিক পালনীয় নেক আমল: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। • নামাজের জন্য ওজু করা। • ওজু ও নামাজের সময় মিসওয়াক করা। • জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। • সুন্নত নামাজগুলো আদায় করা (ইশরাকের নামাজ, তাহাজ্জুদের নামাজ, বিতিরের নামাজ)। • সকাল-সন্ধ্যার জিকির-আযকার। • রাত-দিনের জিকির-আযকার (ঘরে প্রবেশের দোয়া, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া, মসজিদে প্রবেশ ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া, টয়লেটে প্রবেশ ও টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া, পানাহারের দোয়া, ফরজ নামাজের শেষে পঠিতব্য দোয়া ইত্যাদি)। • ইমামের সঙ্গে আজানের শব্দাবলি উচ্চারণ।

সাপ্তাহিক নেক আমল: জুমার নামাজ আদায়। • জুমাবার দিনে বা রাতে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। • জুমাবার দিনে বা রাতে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া। • সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখা।

মাসিক নেক আমল: প্রত্যেক মাসের তিনদিন রোজা রাখা (উত্তম হচ্ছে ‘বিযে’র দিনগুলোতে বা চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা)।

বাৎসরিক বা মৌসুমি নেক আমল: রমজানের রোজা রাখা। • মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করা। • দুই ঈদের নামাজ আদায় করা। • সামর্থ্যবান হলে হজ আদায় করা। • সামর্থ্যবান হলে জাকাত আদায় করা। • রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা। • শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা। • আশুরার রোজা রাখা এবং সঙ্গে একদিন আগে বা পরে আরো একটি রোজা রাখা। • আরাফার দিন রোজা রাখা। • জিলহজের প্রথম দশদিন বেশি বেশি নেক আমল করা ইত্যাদি।

বিশেষ কোনো সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন আমল: এছাড়াও আরো কিছু আমল রয়েছে, যেগুলো বিশেষ কোনো সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও সম্পৃক্ত নয়। বরং যেকোনো সময় আমলগুলো করা যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু আমল অন্তরকেন্দ্রিক আমল। আর কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল। যেমন- • মাকরুহ ওয়াক্ত ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ে নফল নামাজ আদায় করা। • নফল রোজা রাখা। • নফল উমরা আদায় করা। আল্লাহ্‌র জিকির করা। • কোরআন তেলাওয়াত করা। • দরুদ পড়া। • দোয়া করা। • ইস্তিগফার করা। • পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। • আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। • দান-সদকা করা। • অসহায়কে সাহায্য করা। • মুসলমানদের মাঝে সালামের প্রচলন করা। • সচ্চরিত্রবান হওয়া। • জিহ্বা পবিত্র রাখা। • আল্লাহ্‌কে ভালোবাসা। • আল্লাহকে ভয় করা। • আল্লাহর কাছে আশা-প্রত্যাশা করা। • আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল-ভরসা করা। • আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। • আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা। • আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি।

বিশেষ প্রেক্ষাপটকেন্দ্রিক আমল: আবার এমন কিছু আমল আছে, যেগুলো বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপটকেন্দ্রিক; প্রেক্ষাপট পাওয়া গেলে সেসব আমল পালন করা শরিয়তসম্মত। যেমন- রোগী দেখতে যাওয়া, জানাযার নামাজ আদায় করা, হাঁচির উত্তর দেয়া, সালামের উত্তর দেয়া, দাওয়াত দিলে গ্রহণ করা, ইস্তিখারার নামাজ আদায় করা, তওবার নামাজ আদায় করা, সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণের নামাজ আদায় করা, বৃষ্টির নামাজ আদায় করা, বিবদমান দুইপক্ষের মাঝে মীমাংসা করা, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা, কষ্ট ও বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করা ইত্যাদি।

দৈনিক চারটি আমল: আমাদের পূর্ববর্তী পুণ্যবান বা ‘সালফে সালেহিন’ একদিনে চারটি আমল পালন করাকে মুস্তাহাব মনে করতেন। সেগুলো হচ্ছে- • রোজা রাখা। • গরিব-দুঃখীকে খাওয়ানো বা তাদের সদকা দেয়া। • মৃতের জানাজার নামাজে শরিক হওয়া। • রোগী দেখতে যাওয়া ও সেবা-শশ্রুষা করা। এসব প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘এগুলো যে ব্যক্তির মাঝে একত্রিত হবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০২৮)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!