ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কটিয়াদীতে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৫১, ৪ নভেম্বর ২০২৬
কটিয়াদীতে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশেষ করে কয়েকটি কলেজে পাসের হার অত্যন্ত কম হওয়ায় শিক্ষার মান ও পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলায় ৮টি কলেজ থেকে ৯৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০৭ জন। ৩টি মাদ্রাসা থেকে ১১২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৯০ জন। অন্যদিকে, ৩টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮৪ জন।

ফল বিপর্যয়ে কয়েকটি কলেজ প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন  ৩ জন। আয়শা ছিদ্দিকা মহিলা কলেজ থেকে ৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১ জন। লোহাজুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬ জনের মধ্যে ১ জন এবং বনগ্রাম আনন্দ কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৮ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ জন।

এ ছাড়া চাতল বাগহাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন। গচিহাটা কলেজ থেকে ৮০ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৭ জন। ডা. আব্দুল মান্নান মহিলা কলেজ থেকে ১৪২ জনের মধ্যে পাস করেছে ৬৩ জন, কটিয়াদী সরকারি কলেজ থেকে ৭১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৬৩ জন।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল উপজেলার তিনটি মাদ্রাসার মধ্যে ফেকামারা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৪৪ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৮ জন। সহশ্রাম ছাইমুন্নেছা আলিম মাদ্রাসা থেকে ৩৯ জনের মধ্যে ৩৬ জন এবং গাউছিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৬ জন।

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মুন্সী আ. হেকিম কারিগরি কলেজ থেকে ৫৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৪ জন। কটিয়াদী পৌর মহিলা বিএম কলেজ থেকে ১১ জনের মধ্যে ৮ জন এবং গচিহাটা কলেজের কারিগরি শাখা থেকে ৩৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ২২ জন।
কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বনগ্রাম আনন্দ কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফুন্নেছা বেগম বলেন, কলেজ শাখার এমপিওভুক্তি নেই। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, যাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আসে না। তুলনামূলকভাবে দুর্বল শিক্ষার্থীরাই এখানে বেশি ভর্তি হয়। এসব কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাইমিনুল ইসলাম আরিফ বলেন, উপজেলার চারটি কলেজ এমপিওভুক্ত না হওয়ায় উক্ত কলজসমুহে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ফলাফলও খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি এসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম। সেই তুলনায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতিও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কিশোরগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!