আশুলিয়ায় অন্তত ৩০ কারখানায় ছুটি
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন তেমন ভালো নয়। শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তারা অন্য কারখানার শ্রমিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। আমরা শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের এক সদস্য মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, সকালে কাঠগড়া এলাকায় প্রথমে ‘নাঈম নিটওয়্যার’-এর শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
কাঠগড়া আমতলা এলাকার একটি পোশাক কারখানার একজন কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের আশপাশের দুই-তিনটি কারখানা ছাড়া বাকি সবই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
বিশমাইল-জিরাবো সড়কে চলাচলকারী একাধিক অটোরিকশাচালক জানান, সকালে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করার পর থেকে ওই সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটারস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং এবং যথেচ্ছভাবে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
তিনি জানান, অক্টোবরের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শ্রমমন্ত্রী, কিন্তু তা হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গতকাল রাতে শ্রম মন্ত্রণালয়ে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী রোববারের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কাজ শুরু হবে। কিন্তু এই বার্তাটি সাধারণ শ্রমিকদের কাছে ঠিকমতো না পৌঁছানোয় তারা আন্দোলন করছেন।