ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পেনশনের অর্থ পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫২, ৫ অক্টোবর ২০২৬
পেনশনের অর্থ পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন মন্ডল

সারাজীবন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়েছেন। চাকরি শেষে ভেবেছিলেন এবার একটু নিশ্চিন্তে কাটাবেন জীবনের শেষ সময়। কিন্তু অবসরের পরও শেষ হয়নি দৌড়ঝাঁপ।

নিজের প্রাপ্য পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে বছরের পর বছর ধরে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। কেউ তিন বছর ধরে অপেক্ষায়, আবার সাত বছর পার হলেও পেনশনের টাকা না পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ ও তাদের সম্মান জানানোর দিনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমন দুর্ভোগের চিত্র সামনে এসেছে। কর্মজীবনে বছরের পর বছর শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করলেও অবসরের পর নিজেদের প্রাপ্য অর্থের জন্য তাদেরই এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

Advertisement

খুলনার কয়রা উপজেলার কালনা আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোরঞ্জন মণ্ডল ২০২৩ সালে অবসরে যান। এরপর পেরিয়ে গেছে তিন বছর। কিন্তু এখনো পাননি তার পুরো প্রাপ্য টাকা।

মনোরঞ্জন মণ্ডল বলেন, সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। ২০২৩ সালে অবসরের পর নিজের প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্য এভাবে অপেক্ষা করতে হবে, তা ভাবিনি। কিছুদিন আগে সারাদেশের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশনের টাকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি ৪ লাখ টাকা পেয়েছি। এখনো বাকি ২৬ লাখ টাকা। বয়স হয়েছে, শরীরও আগের মতো নেই। তারপরও পেনশনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে হচ্ছে।

আরেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, পেনশনের টাকা আমাদের কাছে কোনো অনুদান নয়, এটি চাকরিজীবনের প্রাপ্য। অবসরের পর যেন দ্রুত টাকা পাওয়া যায়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের ভাষ্য, অবসরের পর নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার অর্থই অনেকের প্রধান ভরসা। কারও চিকিৎসা ব্যয়, কারও সংসারের খরচ—সবকিছুর জন্য প্রয়োজন হয় এই অর্থ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

প্রবীণ শিক্ষকদের জন্য পেনশনের টাকা পেতে বারবার দপ্তরে যাতায়াত করাও কঠিন। কোনো কাগজে ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন, নতুন কাগজ জমা দেওয়া কিংবা ফাইলের অবস্থান জানতে আবারও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ছুটতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের সম্মান জানাতে নানা আয়োজন থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন-ভোগান্তির বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, অবসর গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়া শিক্ষকদের জীবনের শেষভাগ যেন নিজের প্রাপ্য অর্থের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষায় না কাটে—বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!