সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনা, শিক্ষক অব্যাহতি
নেত্রকোনা শহরের এন আকন্দ কামিল মাদরাসার এক শিক্ষকের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর অবস্থানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটির ঘটনা প্রায় এক মাস আগের। প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ওই ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পরই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
.png)
অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মো. এহসানুল হক মাদরাসার অনার্স বিভাগের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের নন-এমপিওভুক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তিনি বিবাহিত ও তিন সন্তানের জনক। তার বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বলে জানিয়েছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অধ্যক্ষ জানান, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি মনিটরে একটি কক্ষে এহসানুল হক ও এক নারীকে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পরে শিক্ষককে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, প্রথমে এহসানুল হক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।
অধ্যক্ষ আরও জানান, ২৬ আগস্ট সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ভিডিওটি ডাউনলোড করে দেখার পর বিষয়টি অনার্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। একই দিন এহসানুল হকের ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং তাকে মাদরাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধ করা হয়। পরে ১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর শিক্ষকমণ্ডলীর জরুরি সভায় পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, বিষয়টি মাদরাসার গভর্নিং বডি, জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে।
এহসানুল হকের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে কামিল ও অনার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি, তা তারা ভালো বলতে পারবেন।