রাজি হলে গত ২৯ মে ঝুমুর স্বামী তারেক, ঝুমু ও পারভীন মিলে দুজনকে যশোর নিয়ে যান। সেখানে আনিসুর নামে আরেকজনের সঙ্গে দেখা হয়। ছয় কিলোমিটার পর তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দেখতে পান। সীমান্তের পাশে একটি ঘরে তাদের রাখা হয়। ২ জুন কাঁটাতারের বেড়া পার করে তাদের রাঁচির একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দুই তরুণী জানতে পারেন- যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে তাদের।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফারজানাকে মারধর করেন ঝুমু। পরে দুজনকে আলাদা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পালিয়ে বান্ধবীকে রাখা হোটেলে যান ফারজানা। যাওয়ার পর জানতে পারেন- পালিয়েছে বান্ধবী। তখন এক নারী তাকে কলকাতার ট্রেনে তুলে দেন। হাওড়া স্টেশনে নেমে বিভিন্নজনের সহায়তায় গত ৬ জুন তিনি দেশে ফেরেন।
.png)
দেশে ফেরার পর ফারজানা বিষয়টি পুলিশকে জানালে গত ২৪ জুন ঝুমুর স্বামী তারেককে গ্রেফতার করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। এরপর চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ফারজানা। ২৭ জুন হাটহাজারী থানা এলাকা থেকে ঝুমু ও পারভীনকেও গ্রেফতার করে র্যাব।
তাদের গ্রেফতারের পর পুলিশ ও র্যাব জানায়, চাকরিচ্যুত নারী পোশাকশ্রমিকরা ছিল তাদের টার্গেট। পোশাকশ্রমিক নারীদের সঙ্গে প্রথমে সখ্যতা গড়ে তোলার কাজটি করতেন ঝুমু। এরপর উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধপথে ভারতে পাচার করতেন।
ফারজানা দেশে ফিরলেও চার মাস ধরে খোঁজ ছিল না বান্ধবী মুক্তার। পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার খোঁজ মিলেছে তারও। জানা গেছে, রাঁচির হাজারীবাগের একটি সেইফ হোমে আছেন তিনি। রবি মিশ্র নামে দেশটির এক আইনজীবীর মাধ্যমে সন্ধান মিলেছে তার।
দেশের এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাচার ও নির্যাতনের কথা জানান ভুক্তভোগী মুক্তা। তিনি বলেন, আমাকে কাজের কথা বলে ভারতে কিডন্যাপ করে নিয়ে এসেছে। আমি দেশে যাওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। আমি আমার মায়ের কাছে যেতে চাই। চার মাস পর্যন্ত আমাকে বাড়িতে একটু ফোন করেও কথা বলতে দেয়নি।
মুক্তার মা-বাবা বলেন, পাচারকারীরা যেন সাজা পায়। আর কেউ যাতে আমাদের মতো এমন কষ্ট না পায়। মেয়েটাকে যেভাবে হোক দ্রুত দেশে নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই।
বাংলাদেশের সহযোগিতা পেলে মুক্তাকে দেশে ফেরানো যাবে বলে জানান ভারতীয় আইনজীবী রবি মিশ্র।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ডিসি মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, আমরা ভারতীয় দূতাবাসকে বিষয়টি জানাবো। যাতে ভুক্তভোগী তরুণী দেশে ফিরে আসতে পারেন।
এদিকে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচার হওয়া ৯ নারী। বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের হস্তান্তর করেন পুনে মহারাষ্ট্রের প্রবেশন অফিসার লাবণ্য গুডুর এবং রিসানা সোনাভান। বাংলাদেশের পক্ষে তাদের গ্রহণ করেন বেনাপোল ইমিগ্রেশনের সেকেন্ড অফিসার নয়ন রায়।
ঐ নারীদের বাড়ি যশোর, নরসিংদী, খুলনা, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। এক থেকে দুই বছর আগে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছিল তাদের। দুই দেশের সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরেন তারা।
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভারতে পাচারের পর কিডনি হাতিয়ে নেয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে রাজধানীর ধানমন্ডি থানা পুলিশ। এক ভুক্তভোগীর করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ভারতে নেয়ার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর একটি কিডনি নিয়ে নেয় চক্রটি। এজন্য দেশে থাকা ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে তিন লাখ টাকাও দেওয়া হয়। চক্রটি এখন পর্যন্ত ১০ জনের কিডনি হাতিয়ে নিয়েছে বলে সেসময় জানায় পুলিশ।