নিহতরা হলেন- শিবপুরের ইটাখোলা মুনসেফের চর এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী সাবিনা আক্তার (২৫) ও তার মেয়ে মাইমুনা (২)। আহত ৪ বছর বয়সী সিনহাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাবিনার সঙ্গে থাকা তার ভাগনে তানিম জানান, সম্প্রতি তাদের মামা বিদেশ থেকে দেশে আসেন। একই সঙ্গে তার এক চাচা বিদেশ যাবেন। তাই তারা চারজন নরসিংদীর ইন্ডেক্সপ্লাজায় কেনাকাটা করতে আসেন। কেনাকাটা শেষে স্টেশন এলাকায় আসেন তারা।
.png)
এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনেটি নরসিংদী স্টেশন অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি হর্ন দিলে ৫ বছর বয়সী শিশু মাইমুনা প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেনের সামনে পড়ে যায়। ওই সময় সন্তানকে বাঁচাতে কোলে থাকা আরেক সন্তানকে নিয়ে এগিয়ে যান মা সাবিনা। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে নিহত সাবিনার কোলে থাকা অপর শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। মা ও শিশুর মরদেহ দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। খবর পেয়ে নিহতর স্বজনরা স্টেশনে ছুটে আসেন। ওই সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে স্টেশন এলাকার পরিবেশ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. শাহপরান জানান, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী স্টেশন অতিক্রম করছিল। এ সময় ট্রেনটি হর্ন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে শিশুটি প্ল্যাটফর্ম থেকে রেললাইনে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে যান তার মা। ওই সময় তারা দুজনই কাটা পড়ে মারা যান। নিহত নারীর কোলে থাকা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নরসিংদী স্টেশন মাস্টার এটি এম মুছা জানান, চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি নরসিংদী স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই সময় ট্রেনটির নিচে কাটা পরে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। একটা শিশু গুরুতর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. মাহামুদুল বাশার কমল জানান, আহত শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত শিশু সিনহাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।