সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীর দেড় থেকে ২শ’ মিটার জায়গার দুই প্রান্ত থেকে ইউপি সদস্য মান্নান ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক রাতের আঁধারে মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছেন।
অপরদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বিশেষ কোটায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় উথুলী বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন রতিনের বাড়ি থেকে ড. মীর ফেরদৌস হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য ১৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। সেখানে শ্রমিকের বদলে নদী থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। রাতভর মাটি কেটে আনা নেয়া করায় ধুলোবালিতে মসজিদ, বাড়িঘর, দোকানপাট ও রাস্তাঘাটসহ আশপাশের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
.png)
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক খান বলেন, ২০২২ সালে ইছামতি নদীতে খনন প্রকল্পে কাজ করার সময় আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে চাঁদা তুলে নদীতে যাওয়ার রাস্তায় মাটি ভরাট করে একটি সড়ক তৈরি করি। গত বছর মান্নান মেম্বার নদী থেকে মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট করেন। এবারও রাস্তায় মাটি ফেলে ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একটি প্রকল্পের রাস্তায় মাটি ফেলার জন্য সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাতের আঁধারে নদী থেকে মাটি কাটছেন।
স্থানীয় মোহাম্মদ আলী জানান, যুবলীগ নেতা ফারুক ও মান্নান মেম্বার নদী থেকে মাটি কেটে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই। নদী থেকে মাটি কাটার সময় তারা এলাকাবাসীকে বলেছেন, নদীতে গোসল করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। নদী থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে আবাদি জমিসহ বাড়িঘর ভাঙনের কবলে পড়বে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, আমি মেম্বারের কাছ থেকে মাটি কিনেছি। তবে কত টাকা দিয়ে কিনছি তা বলা যাবে না।
ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রকল্পের রাস্তায় নদী থেকে মাটি পড়ছে। অন্য কোথাও বা কোনো বাড়িতে মাটি বিক্রি করি নাই। ভাড়াদিয়া থেকে উথুলী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীর কোথাও পানি নেই। তাই গোসল করার জন্য ওই জায়গা থেকে মাটি কাটছি।
প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নদী থেকে মাটি কাটার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছাড়া কোনো বক্তব্য দিব না, তবে উনি ভালো জানেন প্রশাসনের কোনো অনুমতি আছে কিনা?
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা ফারুক বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো বক্তব্য দিব না। আমি শুধু মাটি কাটি আর বিক্রি করি।
প্রকল্পের সভাপতি আব্দুর রহিম মিয়া জানান, আমি বয়স্ক মানুষ। আমাকে সভাপতি করা হয়েছে। আপনি এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে কথা বলেন।
উথুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্বাস আলি বলেন, আমি মাটি কাটা বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত নই। প্রকল্পের রাস্তার জন্য মাটি এনে ভরাট করছি। কে কাটছে সে ব্যাপারে আমি অবগত নই।
শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুদেব কৃষ্ণ বলেন, কাতরাশিন এলাকায় কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২২-২৩ অর্থবছরের যে কাজটি করার কথা ছিল তা মাটির অভাবে করা সম্ভব হয়নি। সেই কাজটি ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। আমি আজই সরেজমিন ঘুরে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, নদী থেকে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য সরকার টাকা দেয়। তাহলে এটা করার কোনো সুযোগ নেই। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ কাজ বন্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।