কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর চরাঞ্চলসহ উপজেলায় মোট ৯১০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষাবাদ হয়েছে। স্থানীয় জাতের মরিচ চাষের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের পূর্ব তেকানী গ্রামের কৃষক আব্দুল বাকী বলেন, ‘আমি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। সেইসঙ্গে অন্যান্য কৃষকদের কাছে থেকে লাল মরিচ ক্রয় করে শুকিয়ে বিক্রি করবো। আমি প্রতিবছরই পাকা লাল মরিচ ক্রয় করি এবং শুকিয়ে মরিচ বিক্রি করি।’
.png)
ভেকিরতাইড় চরের কৃষক হারুন বলেন, ‘আমার জমির মরিচ দেরিতে তুলি। এতে মরিচ জমিতেই পেকে লাল হয়। তারপর সেই মরিচ তুলে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করি। এতে বেশি লাভ হয়। গতবার প্রায় ৭ লাখ টাকার শুকনা মরিচ বিক্রি করেছি। এবার আরো বেশি বিক্রি হবে বলে আশা করছি।’
জানা যায়, পাকা লাল মরিচ ১২-১৫ দিন রোদে শুকালে ১০০ মণ মরিচ শুকিয়ে ২৫ মণ হয়। এখন লাল পাকা মরিচের বাজার দর ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকা। শুকনা মরিচ ১৪ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। বাজার ভালো থাকলে আরো বেশি দামে বিক্রি করা যায় বলে জানান কৃষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, সোনতলায় মরিচ চাষে ঐতিহ্য আছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষক তুলনামূলক মরিচটা বেশি চাষ করে এবং আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। তারা সাধারণত কাঁচা মরিচ বিক্রির মাধ্যমে বাজারের চাহিদা মেটায়। কিন্তু বাজার দর কমে গেলে তারা জমিতে মরিচ পাকানোর মাধ্যমে সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্র করে। শুধু তাই নয় সোনাতলার লাল মরিচ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। আমরা আশা করছি, এবার প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার পাকা লাল মরিচ বিক্রির সম্ভাবনা আছে।