জানা যায়, উপজেলার মোজাফরপুর, চিরাং, রোয়াইলবাড়ি ও পাইকুড়া ইউনিয়নে মরিচের চাষ বেশি হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজার মূল্য কম থাকায় উৎপাদন ব্যয় ওঠা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় মোট ২২০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টন।
.png)
এ উপজেলায় এবার বিজলী, রোপা মরিচ, বোনা মরিচ ও সিন্দি মরিচের চাষ বেশি হয়েছে। মরিচ চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতিমণ কাঁচা মরিচ ৭শ’ থেকে ৮শ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। গত বছর প্রতিমণ মরিচ বিক্রয় হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। এবার মরিচের দাম গত বছরের চেয়ে অনেকটা নিম্নমুখী। তাই এই লোকসান গুণতে হচ্ছে চাষিদের।
সরেজমিনে উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের জালিয়ার হাওরে গিয়ে কথা হয় মরিচ চাষি রেনু মিয়া ও খোকন মিয়ার সঙ্গে।
তারা জানান, এবার এক বিঘা জমিতে বিজলী মরিচ, বোনা মরিচ ও রোপা মরিচের চাষ করেছেন তারা। এতে তাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। মরিচ ক্ষেত থেকে প্রথম দফায় ৪ মণ, দ্বিতীয় দফায় ৬ মণ ও তৃতীয় দফায় ১০ মণ মরিচ তুলেছেন।

তারা আরো জানান, শুরুতে ১ হাজার হতে ১২শ’ টাকা মণ দরে মরিচ বিক্রয় করেছেন তারা। বর্তমানে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা মণ দরে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে এবার মরিচের চাষ করে লোকসানে পড়েছেন তারা।
মোজাফরফুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, গত বছর বিজলী মরিচ চাষ করে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রয় করেছি। এবার মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার মূল্যে একেবারেই ধস নেমেছে। ফলে এবার মরিচ চাষে লাভ হবে না। খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে মরিচ চাষের প্রতি আগ্রহ হারাবে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন সুলতানা বলেন, আমরা মরিচ, শাক-সবজি ও রবিশস্যের চাষের জন্য কৃষকদের যথারীতি উৎসাহ প্রদান করে আসছি। তবে পাইকারদের কাছে মরিচ বিক্রি না করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় এবার মরিচের আবাদে কোনো প্রকার রোগবালাই আক্রমণ নেই। ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ২২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষাবাদ হয়েছে। যারা আগাম মরিচ চাষ করেছেন তারা লাভবান হয়েছেন।