বর্তমানে তাহেরের ছোট একটি খামারে ছোট বড় ১৪টি ছাগল রয়েছে। বাচ্চা উৎপাদন করাই তার মূল কাজ। এসব লালন পালন করে পরিমিত বয়স হলে সেটি বাজারে বিক্রি করে দেন। এভাবে প্রতি ছয় মাস এক বছর পরপর নতুন বাচ্চা আসলে বড় বাচ্চাগুলো বিক্রি করে দেন আবু তাহের।
এসব ছাগলের পেছনে সব খরচ বাদ দিয়ে তার সন্তুষজনক লাভ থাকে। যা দিয়ে পুরো পরিবার চালান তিনি। তিন সন্তানের লেখাপড়া, স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজনের ভরণপোষণ হয় ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে। ১০ বছর ধরে ছাগল লালন পালন করছেন দিনমজুর আবু তাহের। তিনি বর্তমানে স্বাবলম্বী।
.png)
জানা গেছে, ১০ বছর আগে একটি ছাগল কিনে লালন পালন করেছেন আবু তাহের। এক বছর পর চারটি ছাগল ছানা জন্ম দেয় মা ছাগলটি। সেগুলো লালন পালন করে বড় করার পর দুটি পুরুষ ছাগল বিক্রি করে দেয়। বাকী দুটি ছাগল রেখে দেন। সেই দুটি ছাগল লালন পালন করে মা ছাগলের ন্যায় পরিমিত সময় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মা ছাগলসহ তার কাছে তিনটি ছাগল পুঁজি হিসেবে থাকে। এই তিনটি ছাগল থেকে পর্যাক্রমে বাচ্চা উৎপাদন করেন তিনি। এভাবে ১০ বছর একের পর এক ছাগল বাড়তে থাকে। এক একটি ছাগল তিনটি কিংবা চারটি ছানা জন্ম দেয়। সবকটি ছাগল আবু তাহের নিজেই লালন পালন করে আসছেন।
এভাবে প্রতি বছর ছাগলের জন্ম হয় আর বড় বাচ্চা কিংবা পরিমিত বয়সের ছাগল বাজারে বিক্রি করে দেন। তবে ঈদুল আজহায় কোরবানীর সময় বেশি লাভবান হন বলে জানান আবু তাহের।
আবু তাহের বলেন, আমি দিনমজুরের কাজ করেছি। ২০১৩ সালে একটা ছাগল কিনে লালন পালন করি। এই ছাগল দিয়েই পর্যায়ক্রমে বাচ্চা উৎপাদন করার চেষ্টা করি সফলও হই। বর্তমানে আমার খামারে ছোট বড় ১৪ টি ছাগল আছে। এরমধ্যে মা ছাগাল আছে ছয়টি। বাকী গুলো এখনো বাচ্চা। সরকারিভাবে বিভিন্ন সময় প্রণোদনা পেয়েছি।
সরকারি পশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ছাগলের চিকিৎসা করি। বিনা টাকায় চিকিৎসা করা হয়। তবে আমার ছাগলের তেমন একটা রোগ হয় না। এসব ছাগলকে ভুসি, কাঁচা ঘাস, খইলসহ বিভিন্ন খাবার খাওয়াতে হয়। দিনের বেলায় মাঠে নিয়ে বেঁধে রাখি, রাতে ঘরে নিয়ে ভুসি দিয়ে রাখি। এভাবে আমার ছাগল দিন দিন পরিমিত বয়স হয়। আর সময়মতো বিক্রি করে থাকি। বিগত ১০ বছর আমার প্রায় চার লাখ টাকা লাভবান হয়েছে। এই ছাগল বিক্রির আয় দিয়েই আমার পুরো সংসার চলে, সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাই।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, শুধু আবু তাহের নয়, যেসব উদ্যোক্তা পশু-পাখি গরু-ছাগল পালন করতে চায়, তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হবে।