বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে শিবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়নকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি ওই উপজেলার বানাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। গ্রেফতারের পর নয়ন হত্যার দায় স্বীকার করে বুধবার বিকেলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
.png)
পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, প্রায় নয় মাস আগে প্রতিবেশী নয়নের সঙ্গে আশা দেবীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বামী মুদি ব্যবসায়ী হওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় আশা বাড়িতে একা থাকতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তৈরি হয়। এরমধ্যে গত তিনমাস আগে পারিবারিকভাবে নয়নের অন্যত্র বিয়ে হয়। তখন থেকেই আশা দেবী নয়নের সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ও মেলামেশা বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আশার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি নয়ন।
তিনি আরো বলেন, দুর্গাপূজার নবমীর রাতে মানুষের আনাগোনা বেশি হওয়ায় আশাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নয়ন। গত ২৩ অক্টোবর রাতে দায়িত্ব পালন শেষে পোশাক পরিবর্তন করার জন্য আশা দেবী মন্দির থেকে বাড়িতে যান। এ সময় তিনি নয়নকে দেখতে পেয়ে বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে দেন। ওই সময় আশা দেবীর বাড়িতে কেউ ছিল না। সবাই পূজা মণ্ডপে ছিলেন। সুযোগ বুঝে নয়ন বাড়ির পেছনের ইটের প্রাচীর টপকে আশা দেবীর শয়ন কক্ষে ঢুকেন। এ সময় আশা দেবী তার পরিহিত আনসার ভিডিপির পোশাক পরিবর্তন করছিলেন। হঠাৎ নয়নকে দেখতে পেয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিভিন্ন ভাবে ফুসলিয়ে আশা দেবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে লিপ্ত হন নয়ন। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শেষেই শোয়ার খাটের পাশে থাকা মোবাইল চার্জারের ক্যাবল মুখের মধ্যে দিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে আশা দেবীকে হত্যা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার, আব্দুর রশিদ, সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রউফ ও মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আশিক ইকবাল।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ অক্টোবর দুর্গাপূজা চলাকালে নবমীর রাতে স্বামীর বাড়ি থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য আশা দেবীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বানাইল উত্তরপাড়া গ্রামের ভোজন মোহন্তের স্ত্রী।