বুধবার বিকেলে উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পানির কুয়া থেকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের প্রেমিকা সৌদি প্রবাসী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত লাল্টু নওদাপাড়া গ্রামের ছাইনুদ্দীনের ছেলে।
.png)
লাল্টুর মিয়ার ভাই পল্টু মিয়া জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ হন তার ভাই লাল্টু মিয়া। বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে ১৪ সেপ্টম্বর গাংনী থানায় একটি জিডি করা হয়।
তিনি আরো জানান, হাড়াভাঙ্গা গ্রামের সৌদি প্রবাসী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সাবিনা খাতুনের (৩৭) সঙ্গে লাল্টুর পরকীয়ায় জড়ানোর বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে জানানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাতে সাবিনা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায় সাবিনা খাতুন পুলিশকে জানান, লাল্টুর সঙ্গে তার পরকীয়া ছিল। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে তার বাড়িতে এসে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তার মরদেহ বাড়ির মধ্যে পরিত্যক্ত পানির কুয়ায় ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, লাল্টু মিয়া গত ৬-৭ মাস আগে সাবিনা খাতুনের বাড়িতে ইটভাঙাতে গিয়ে পরকীয়ায় জড়ান। পরকীয়ার বিষয়টি সাবিনার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম জানতে পেরে এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাবিনা খাতুন নওদাপাড়া গ্রামে গিয়ে লাল্টুর মাকে বিষয়টি খুলে বলেন। পরে তার বাড়িতে যাতায়াত করতে নিষেধ করেন।
ঘটনাটি লাল্টুকে তার মা জানালে ঐ রাতেই সাবিনা খাতুনের বাড়িতে যান লাল্টু। একপর্যায় দু’জনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গাংনী থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, সাবিনা খাতুন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।