বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে, দুপুরে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বর্ডার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আব্দুর রহিম চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। ভুক্তভোগী সুমন চর বাদাম ইউনিয়নের পূর্বচরসীতা গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে। তিনি পেশায় গাছ ব্যবসায়ী।
.png)
জানা যায়, গত ৭ জুন সুমনদের এলাকা পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় দুটি অটোরিকশায় কয়েকজন লোক আসেন। একপর্যায়ে মামলা আছে বলে তারা পুলিশ পরিচয়ে সুমনকে তুলে নিয়ে যান। পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভুলুয়া নদীর পাশে ফিরোজ মিয়ার প্রকল্প এলাকার নির্জনস্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তিনি সবাইকে চিনতে পারেন।
এ সময় গাছের সঙ্গে দুই হাত বেঁধে তার (সুমন) মোবাইল থেকেই ইউপি সদস্য আবদুর রহিমকে কল দেওয়া হয়। এরপর আবদুর রহিম এসে তাকে বিবস্ত্র করার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে তার শরীরে পিঁপড়া ছেড়ে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারতে থাকে। পরে মুখে কাঁদা ঢুকিয়ে দিলে বমি করেন। এ সময় ফের মুখে লতাপাতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে মুখে কালোকাপড় বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা।
এ ঘটনার পরদিন সুমনের ভাই আবদুল মাজেদ রাজিব বাদী হয়ে থানায় অপহরণ মামলা করেন। এতে ইউপি সদস্য আবদুর রহিমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।
বাদীর আইনজীবী মো. ইয়াহিয়া সোহাগ জানান, মামলার পর আসামি আব্দুর রহিমসহ অন্যান্যরা উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের জামিন নেন। পরবর্তীতে জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৪ জুলাই আসামিদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত হলেও আব্দুর রহিম উপস্থিত হননি। এতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
রামগতি থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, অপহরণ মামলায় পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।