ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চুরির অপবাদ দিয়ে রাজমিস্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৭, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
চুরির অপবাদ দিয়ে রাজমিস্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে চুরির অপবাদ দিয়ে এক রাজমিস্ত্রীকে গভীর রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউপি মেম্বার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বুধবার রাত ২টার দি উপজেলার ইউসুফপুর ইউপির পূর্ব নবীপুর গ্রামের বাহার উদ্দিন সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পূর্ব নবীপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. মামুনকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে নিজ ঘর থেকে বশির মেম্বারের বাড়িতে তুলে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। বৃহস্পতিবার সারা দিন একটি ঘরে আটকে রাখে। মামুনের পরিবার অনেক আকুতি মিনতি করেও তাকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনা পুলিশকে জানালে জীবন নাশেরহুমকি দেয় বশির মেম্বার ও তার লোকজন।

Advertisement

স্থানীয় ইউছুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে এক সালিসে ঘটনার মীমাংসা করে দেন। চুরির প্রমাণ ছাড়া একজনকে চুরির অপবাদে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি, তাই আহত মামুনের চিকিৎসার জন্য বশির মেম্বারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

পরে ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মামুনকে তার স্বজনরা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

আহত মামুন জানান, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি ও আমার ছেলে রাশেদ টাইলস এর কাজ করে। কাজ শেষে ঘরে এসে রাতে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ি। মোবাইল চুরির ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। রাত ২টার দিকে বশির মেম্বার তার ছেলে রুবেল, মেহেদি এবং ভাতিজা শামীম, শরিফ ও তাদের অনুসারী ইয়াসিন, কাঠমিস্ত্রী রুবেলসহ আরো কয়েকজন আমার বাড়িতে এসে আমাকে চোর চোর বলে উচ্চস্বরে ডাকাডাকি শুরু করে। পরে দরজা খুললে আমাকে টেনে হেচরে ঘর থেকে বাহির করে নিয়ে যায়। বশির মেম্বারের বাড়িতে সারারাত আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে লাঠিসোঁটা ও পাইপ দিয়ে বেধরক মারধর করেন। আমি মোবাইল চুরি করেছি তা স্বীকার করার জন্য জুয়েল প্লাস দিয়ে আমার পায়ের নখ তুলে নেয়।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। 

আহত মামুনের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম এতো রাতে আমার স্বামীকে ঘরে থেকে তুলে নিয়ে চোর অপবাদ দিয়ে মারধর করলো, মেম্বার সারারাত সারাদিন বেঁধে রাখলো, আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। 

এ বিষয়ে ইউছুফপুর ইউপির সাবেক মেম্বার বশিরের সঙ্গে বার বার মোবাইল ফোনের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুক্রবার দুপুরে ইউসুফপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামবাসীদের নিয়ে সালিসে বসে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছি। মোবাইল চুরি হয়েছে সত্য, তবে মামুন মিয়া চুরি করেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বশির মেম্বারকে মামুনের চিকিৎসা খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাদেমুল বাহার জানান, এ বিষয়টি ফেসবুক ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছি। তবে ভিক্টিমের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: কুমিল্লা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!