এটিএম বুথ থেকে নিরাপত্তাকর্মী বাইর হলে তাকে পেছন থেকে স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করেন। পরে তার নাকে গামছা ধরলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। তারপর বেধে ফেলা হয় তার হাত-পা ও মুখ। চারটি তালা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অর্ধকোটি টাকার বৈদ্যুতিক ক্যাবল পিকআপে তুলে পালিয়ে যান তারা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই ডাকাত দলের সদস্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
.png)
শরীয়তপুর সদরের মার্কেন্টাইল ব্যাংক এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী আহত আব্দুর রউফ বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে যখন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ছি, তখন কে যেন দরজায় বাড়ি দিচ্ছিল। তখন নামাজ শেষ করে দরজা খুলে বাইরে যাই, দেখি ৮-১০ জন লোক। পেছন থেকে একজন আমাকে স্টিলের পাইপ দিয়ে বাড়ি দেন। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। তখন আরেকজন বলেন, ওকে মেরে ফেল, পরে গামছা দিয়ে মুখ চাপ দিয়ে ধরেন। এরপর আমাকে তাদের পিকআপে তুলে আরও মারধর করেন এবং হাত-পা, মুখ বেঁধে ফেলেন। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
শরীয়তপুর সদরের বিজলী ক্যাবলস বিক্রয়কেন্দ্রে ম্যানেজার মো. শাহীন হোসেন বলেন, ডাকাতরা চারটি তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে।
সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলেছে। আমাদের শো-রুমের প্রায় অর্ধকোটি টাকার বৈদ্যুতিক ক্যাবল নিয়ে গেছে। ডাকাতরা এক ঘণ্টা ৭ মিনিটের ভেতরে লুট করে সব নিয়ে যায়। প্রতিনিয়ত এমন ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এখন আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।
শরীয়তপুর সদর শাখা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান খান বলেন, আমার এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছেন। তিনি সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার অবস্থা ভালো না, ডাক্তারের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হতে পারে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।