বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে দুইজনকে হত্যা
বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে ১৪ বছর বয়সী ওমর ফারুক নামে স্কুলছাত্র ও আজহার নামে ৬৪ বছর বয়সী এক সবজি বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে আজহার ছুরিকাঘাতে নিহত হন। আর ফারুক তার সাবেক স্ত্রীর প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সোমবার মধ্যরাতে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার দ্বিতীয় বাইপাস সড়কের হেলেঞ্চাপাড়া গ্রামে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সবজি বিক্রতা আজহার। সেখানে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং এতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আজহার উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের নন্দগ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, বগুড়া পৌরসভার বনানী সুলতানগঞ্জ হাটে সবজি বিক্রি করে অটোভ্যান যোগে বাড়ি ফিরছিলেন আজহার। তিনি হেলেঞ্চাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের সামনে একটি মোটরসাইকেল দাঁড় করানো হয়। এতে ভ্যান থামাতে বাধ্য হন চালক আব্দুর রহমান। ওই মোটরসাইকেলে তিন যুবক ছিলেন। পরে তারা (মোটরসাইকেল আরোহী) ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে আজহার ও ভ্যানচালক আব্দুর রহমানের কাছে যা কিছু আছে সব দিতে বলেন। আব্দুর রহমান তার কাছে থাকা দুই হাজার টাকা তাদেরকে দিয়ে দেন। কিন্তু আজহার ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এতে তার (আজহার) বুকসহ অন্যান্য স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পরে স্থানীয়রা আজহারকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসক আজহারকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সবজি বিক্রেতার আজহারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। থানায় এখনো মামলা হয়নি।
এদিকে, ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক নামে স্কুলছাত্র মারা গেছে।
মঙ্গলবার সকালে সে মারা যায়। এর আগে গত ১১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে ফারুকের নিজ স্কুল মাঠেই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর (মঙ্গলবার) তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক সদরের মালতিনগর হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং একই এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন মালতিনগর বনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ।
জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে ফারুক একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মুন্নী নামে এক ছাত্রীকে বিয়ে করে। দাম্পত্য কলহের কারণে গত মে মাসে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। পরে একই বিদ্যালয়ের হৃদয় নামে দশম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মুন্নী। বিষয়টি নিয়ে মাঝে মধ্যেই ফারুক ও মুন্নীর মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা হতো। ঘটনার দিন তাদের বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান হচ্ছিল। ওই সময় হৃদয়ের সঙ্গে ফারুক তার সাবেক স্ত্রী মুন্নীকে দেখতে পায়। এতে ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মুন্নী ও হৃদয়ের সঙ্গে তার বাগ-বিতণ্ডা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে বিদালয়ের মাঠেই ফারুককে ছুরিকাঘাত করে হৃদয়।
এসআই সাজ্জাদ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ফারুকের সাবেক স্ত্রীর প্রেমিকের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তার (ফারুক) পরিবার থেকে এখনো মামলা করা হয়নি। তবে অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে।