ভৌগলিক কারণে গভীর সমুদ্রে মিলছে না ইলিশ
বছরজুড়েই ছিল থেমে থেমে নিষেধাজ্ঞার ধকল। আর মৌসুমের শুরুতেই টানা ৬৫ দিনের অবরোধ। এরই মাঝে নিশ্চুপ করোনার হানায় বিকল্প কর্মসংস্থানে যোগ দেয়ার উপায়ও ছিল না সমুদ্র থেকে অর্থ সংগ্রহকারীদের। এ গোষ্ঠীর কেবল মৌসুমের ওপর নির্ভর করেই মেটাতে হয় সাংসারিক পুরো বছরের আর্থিক চাহিদা। তবে চাহিদানুযায়ী এ বছর দেশের সর্বদক্ষিণের জেলেদের ভাগ্যে এখনো দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশের।
আর মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, পলি পড়ে নদী ভরাট এবং ভৌগলিক কারণেই গভীর সমুদ্রে ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জালে নতুন সুতার বুনন দিয়ে ইলিশের ভরা মৌসুমের শুরুতে সমুদ্রে যাত্রা করলেও বৈরি আবহাওয়ায় ঘাটে ফিরতে হয়েছে জেলেদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফের সমুদ্রে ফিরলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পায়নি কোনো জেলে কিংবা ট্রলার মালিক। লাখ লাখ টাকার তেল ও বাজার নিয়ে সমুদ্র ঘুরেও তীরে ফিরতে হচ্ছে অনেকটা শূন্য হাতে।

তবে অবরোধের পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার স্বপ্ন ছিল জেলেদের। আর চলতি মৌসুমেই সাগরে ছোট আকৃতির সামান্য ইলিশ পেয়ে প্রতি যাত্রায়ই তেল খরচাও তুলতে পারছেন না ট্রলার মালিকরা। তবুও লোকশানের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারভর্তি তেল ও বাজার নিয়ে ফের সমুদ্রে ফিরছেন ইলিশ শিকারীরা।
মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দর সরেজমিনে ঘুরে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা হয় মিতালী ফিশিং আড়ৎ মালিক ইউসুফ হাওলাদারের সঙ্গে, তিনি হতাশার কণ্ঠে বলেন, প্রায় দেড় কোটি টাকার দাদন রয়েছে তার ঘরে। তবে তার আড়তে দাদনকৃত কোনো ট্রলারেই এখনো মাছের দেখা পায়নি। ট্রলারভর্তি তেল এবং বাজার নিয়ে সমুদ্রে গেলেও ঘাটে ফিরছে শূন্য হাতে।
মা জননী ১০ নামের ট্রলার মালিক শহীদ মিয়া জানান, প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার বাজার নিয়ে সাগর থেকে ফিরে মাছ বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকায়।

একই অবস্থার কথা জানান, এফবি আল-হাসান ট্রলার মালিক মো. আবু হানিফ। ২ বারে ৪ লক্ষাধিক টাকার তেল এবং বাজার নিয়ে গিয়ে তার ট্রলার সমুদ্র থেকে ঘাটে ফিরলে মাছ বিক্রি করেছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকার। তবে গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারে যাওয়া দুই একটা ট্রলারে মাছের দেখা পেলেও শতকরা ৯০ ভাগ ট্রলারই ঘাটে ফিরছে লোকশান নিয়ে। এদিকে স্থানীয় নদ-নদীতে মোটেই ইলিশের দেখা না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন জেলেরা।

এ বিষয়ে আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, ঘাটে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রলার সমুদ্র থেকে ফিরে আসলেও কিছুটা মাছ পেয়েছে মাত্র ১১টি ট্রলারে।
তিনি বলেন, এব ছর মাছের যে আকাল দেখা দিয়েছে তাতে জেলেরা দুশ্চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নদীতে পলি জমে যাওয়ায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আর মনে হচ্ছে ভৌগলিক কারণেই গভীর সমুদ্রেও ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেলেরা।