ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

শ্বাসরোধের পর ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে বাবা

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:০৩, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
শ্বাসরোধের পর ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে বাবা
শিশু জিহাদ

নীলফামারীর ডিমলায় জিহাদ নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। সৎ মা ও বাবার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। 

এছাড়াও হত্যার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফুটন্ত গরম পানিতে শরীর ঝলসে দেয় পাষণ্ড বাবা। পরে অর্ধগলিত অবস্থায় স্টিলের বাক্সবন্দী করে রাতের আঁধারে উপজেলার রামডাঙ্গা ফরেস্ট ও সিংগাহাড়া নদীর তীরে ফেলে দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু জিহাদ দিনাজপুরের খানসামা এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে। 

এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর পিবিআই এসপি এবিএম জাকির হোসেন। 

আরো পড়ুন: সেই ভয়ংকর রাতের বর্ণনা দিলেন ইউএনও ওয়াহিদার বাবা

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টেগিশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর পরিচয় ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বাবা ও সৎ মাসহ আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রংপুর পিবিআই’র এসপি জানান, গত ১৪ জুলাই মধ্যরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু জিহাদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওয়াটার হিটার দিয়ে করা গরম পানি গায়ে ঢেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার বাবা জিয়াউর রহমান। পরদিন সকালে জিয়াউর রহমান, সৎ মা আলেয়া মনি ও নানা আইয়ুব আলী বাড়ির বেডসিট ও কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে স্টিলের বাক্সে তালাবদ্ধ করে। এরপর ১৩ হাজার টাকা চুক্তিতে মধ্যরাতে ডিমলা ফরেস্ট এলাকায় বাক্সবন্দি জিহাদের মরদেহ ফেলে রেখে যায়। 

আরো পড়ুন: ছোট্ট দুই শিশুর প্রতি সৎমায়ের এ কেমন আচরণ?

গত ১৫ জুলাই মধ্যরাতে রাস্তার পাশে স্টিলের বাক্সটি দেখতে পেরে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। বাক্সে একটি অর্ধগলিত মরদেহ মিললে নাম-পরিচয় মেলেনি এমনকি স্থানীয়রা কেউ মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। এ ঘটনায় পিবিআই এর রংপুরের এসপি এবিএম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল ওই ঘটনার ১ মাস ১৭ দিনের মাথায় ক্লুলেস এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে।

এসপি জাকির হোসেন আরো জানান, শিশু জিহাদ হত্যাকাণ্ডে তার বাবা জিয়াউর রহমান, সৎ মা আলেয়া মনি ও নানা আইয়ুব আলীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!