সাব-ঠিকাদার নাহিদ হত্যার রহস্য উদঘাটন
বগুড়ার শাজাহানপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) সাব-ঠিকাদার নাহিদ হোসেন হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে দুই কিশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসান খানের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
রাব্বী হাসান নামে এক যুবককে তিনদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
গত ২৫ আগস্ট রাতে পাওনা টাকা দেয়ার নামে সহকর্মী রাসেল হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা পশ্চিমপাড়ায় ফোনে ডেকে নিয়ে নাহিদকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা শাজাহানপুর থানায় গ্রেফতার তিনজনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
আরো পড়ুন: ধর্ষণের পর হত্যা-গুম-জবানবন্দি: সংসার করতে চান সেই স্কুলছাত্রী
বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর আসলাম আলী ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা পশ্চিমপাড়ার জোবেদুল ইসলাম জবার ছেলে রাসেল হোসেন ও ফুলতলার জাহিদুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হোসেন পবিসের ঠিকাদারের কাজ দেখাশোনা করেন। নাহিদ সমিতির পুরাতন মালামাল বিক্রির কিছু টাকা রাসেলের কাছে পেতেন। এ টাকা নিয়ে দুইজনের মাঝে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। রাসেল তাকে (নাহিদ) সরিয়ে দিতে দুই কিশোরসহ পাঁচজনের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন।
গত ২৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে রাসেল টাকা দেবার নামে নাহিদকে শাকপালা পশ্চিমপাড়া এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পরপরই পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পরদিন নাহিদের বাবা শাজাহানপুর থানায় রাসেলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এসপি আলী আশরাফ ভুঞা মামলা তদন্ত করতে গোয়েন্দা পুলিশেকে নির্দেশ দেন।
আরো পড়ুন: মাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেই সিরাজ
গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর আসলাম আলীর নেতৃত্বে ২৬ আগস্ট রাতে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রধান আসামি রাসেলের ভাই রাব্বী হাসান ও দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাব্বী ও দুই কিশোরকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালিদ হাসান খানের আদালতে হাজির করা হয়। দুই কিশোর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।
এছাড়া আদালত রাব্বীকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আদালত দুই কিশোরকে যশোরের পুলেরহাটে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আদালতের নিষেধ থাকায় দুই কিশোরের নাম, পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।