আত্মগোপন করতে টোকাই বেশে ছিল খুনি, জবানবন্দিতে খুনের রহস্য উদঘাটন
কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত যুবকের মরদেহ উদ্ধার। মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার হলেও মাথার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে লাকসামে টোকাই বেশে আত্মগোপনে থাকা খুনি জামাল হোসেনের কাছ থেকে খণ্ডিত মাথার খোঁজ মিলল। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর খণ্ডিত মাথার সন্ধান পাওয়া যায়।
খুনির দেয়া তথ্যমতে জেলা পিবিআই-র এসআই ইব্রাহিম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার টাটেরা গ্রামের একটি পুকুর থেকে পলিথিন মোড়ানো খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মাথা উদ্ধার করেন।
এর আগে, ১০ জুলাই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সাহেবাবাদ ইউপির টাটেরা গ্রামের একটি পুকুরপাড়ের নির্জন এলাকায় স্থানীয়রা অজ্ঞাত যুবকের মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্রাহ্মণপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাথাবিহীন মরদেহটি উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই যুবকের খণ্ডিত দেহ উদ্ধারের পর মাথা উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও চারদিনেও সন্ধান মিলেনি।
এরইমধ্যে ১৪ জুলাই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) এর নিকট হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান জেলা পিবিআই টিমের সদস্য এসআই মো. ইব্রাহিম। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার মুঠোফোনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন জামাল হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালান তিনি। প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারেন জামাল লাকসাম জংশন এলাকায় অবস্থান করছেন।
অবশেষে রোববার সন্ধ্যায় লাকসাম জংশন এলাকার এক ব্যবসায়ীর দেয়া তথ্যমতে জংশন গোলচত্ত্বর থেকে জামালকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে একের পর বেরিয়ে আসছে রহস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জামাল অজ্ঞাত যুবকের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। মাদক সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ ঘটনায় ওই যুবককে হত্যা করা হয়ছে বলে তিনি স্বীকারোক্তিতে জানান।
হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত প্রধান আসামী জামালের দেয়া তথ্যমতে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের ১০দিন পর সোমবার পিবিআই-র এসআই মো. ইব্রাহিমসহ একটি টিম অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার সাহেবাবাদ ইউপির টাটেরা গ্রামের একটি পুকুর থেকে জাল দিয়ে পলিথিন মোড়ানো খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মাথা উদ্ধার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে জামাল জানায়, হত্যাকাণ্ড শেষে তিনি লাকসাম চলে আসেন এবং গ্রেফতার এড়াতে টোকাই বেশে চলাফেরা করতেন। দিনের বেলায় তিনি এদিক-সেদিক ঘুরাফেরা করতেন। রাতের বেলায় অন্যান্য টোকাইদের সঙ্গে রেলওয়ে জংশন এলাকায় ঘুমাতেন বলে জানা গেছে। জামাল হোসেন ব্রাহ্মণপাড়া সদরের আবদুল খালেকের ছেলে এবং ফয়েজ আলী মেম্বারের নাতি।
কুমিল্লা জেলা পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মামলাটি অধিগ্রহণের পর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল ও ম্যান্যুয়াল তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে মামলার মূল আসামী জামাল হোসেনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় তিনটি চুরি ও একটি মাদকের মামলাও আছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো অন্যান্য ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।