ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ময়লার স্তূপে শিশুর মরদেহের রহস্য উদঘাটন, ধর্ষণের পর হত্যা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৩৩, ১৮ মে ২০২০
ময়লার স্তূপে শিশুর মরদেহের রহস্য উদঘাটন, ধর্ষণের পর হত্যা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের টঙ্গী মধুমিতা রেলগেট এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে গত শনিবার সাত বছরের এক মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার দুইদিন পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব।

গত শনিবার মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানার মধুমিতা রেল গেট এলাকার একটি ময়লার স্তূপ থেকে বেলতলা এলাকার ভাড়াটিয়া মো. মামুন মিয়ার মেয়ে মাদরাসা ছাত্রী চাদনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাদনী স্থানীয় একটি মাদরাসায় প্রথম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। ঘটনার আগের দিন বিকেল ৩টার দিকে চাদনী তার বাসা থেকে ১০০ গজ দূরে রেল লাইনের পাশে খেলার মাঠে খেলা করতে যায়। পরবর্তীতে বাসায় না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং রাতে স্থানীয় মসজিদের মাইকে তার নিখোঁজের ঘোষণা দেয়া হয়। 

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরের দিন সকাল ১০টায় টঙ্গী পূর্ব থানার মধুমিতা রেলগেট এলাকায় সজীবের ইটের স্তূপের পাশে থেকে চাদনীর মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের গলায় ও দুই পায়ে আঘাতের চিহ্নসহ ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে চাদনীর বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন। মামলার পর জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-১ এর একটি গোয়েন্দা দল অতি দ্রুততার সঙ্গে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।  

র‌্যাব-১ এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রোববার রাত আড়াইটায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল টঙ্গী পূর্ব থানার রেল স্টেশন এলাকা থেকে মো. নিলয় নামে একজনকে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, সে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। 

তিনি আরো জানান, দীর্ঘ দিন ধরে নিলয় এবং তার সহযোগীরা মিলে টঙ্গী রেলস্টেশন এবং তার আশপাশ এলাকায় নিয়মিত চুরি ছিনতাই করে আসছিল। নিলয়ের পরিবার এবং চাদনীর পরিবার একইভবনে ভাড়া থাকত, সেই সুবাদে নিলয় এবং চাদনী পূর্ব পরিচিত ছিল।  ঘটনার দিন বিকেল ৩ টার দিকে চাদনী খেলার মাঠে খেলা করতে আসলে নিলয় এবং এ ঘটনার অন্যতম হোতা তার পলাতক সহযোগী মিলে চাদনীকে চোখে চোখে রাখে এবং খেলা চলার নিলয় তাকে কৃষ্ণচূড়া গাছ থেকে ফুল এনে দেয়। 

চাদনী বাসায় ফেরার পথে বৃষ্টি হওয়ায় আশে পাশে লোক সমাগম কম থাকায় নিলয় ও তার সহযোগী পরিকল্পিতভাবে চাদনীকে চকলেট কিনে দেয়ার নাম করে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী টঙ্গীর মধুমিতা রেল গেট এলাকায় সজীবের ইটের স্তূপের আড়ালে নিয়ে যায়। এর পর নিলয় দুই হাতে চাদনীর মুখ চেপে ধরে রাখে এবং তার সহযোগী চাদনীকে ধর্ষণ করে।

এভাবে তারা দুইজনই চাদনীকে পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে চাদনী কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং ধর্ষণকারীরাভাবে চাদনী বাড়িতে গিয়ে সবাইকে বলে দেবে। এ সময় পলাতক ধর্ষক চাদনীর গলা টিপে ধরে এবং নিলয় চাদনীর দুই পায়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে তারা চাদনীর মরদেহ ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামিকে আটক করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!