ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

রহস্য উদঘাটনে কবর থেকে তরুণীর মরদেহ উত্তোলন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:১১, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯
রহস্য উদঘাটনে কবর থেকে তরুণীর মরদেহ উত্তোলন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দাফনের পাঁচ মাস পর নেইবারস বাংলাদেশ সিডিপির এসএস সার্পোটার স্বেচ্ছাসেবী কর্মী লিজা আক্তারের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। 

রোববার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুর ইউপির পুর্ব আদকানী পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অরুপ কুমার চৌধুরী ও কমলগঞ্জ থানার এসআই ফরিদ মিয়া। 

এর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নয়, লিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তুলে ২৪ আগস্ট আদালতে মামলা করেন তার মা আলেয়া বেগম।

মামলার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ২১ জুলাই বিকেলে আদমপুর-কোনাগাঁও সড়কে মোটরসাইকেলের পিছন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এনজিও কর্মী লিজা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। মামলায় প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদকসহ অন্যান্য সহকর্মীদের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে লিজার মৃত্যুর অভিযোগ তোলা হয়। 

ঘটনার দিন বিকেলে অফিসের কাজে লিজা পূর্ব কোনাগাঁও যান। রিকশা বা অটোরিকশা যোগে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদ লিজাকে মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। লিজা আপত্তি জানানোর পরও জোরপূর্বক ড্রাইভিং ও লাইসেন্সবিহীন চালক ফখরুল ইসলাম শাকিলের মোটরসাইকেলে যেতে বাধ্য করা হয়। লিজা বারবার দ্রুত মোটরসাইকেল চালাতে বাধা দেন। তবে শাকিল ভ্রুক্ষেপ না করে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালান। এক পর্যায়ে পিছন দিকে জোরে ধাক্কা দিয়ে লিজাকে মাটিতে ফেলে দেন শাকিল। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। 

লিজার মা আলেমা বেগম জানান, মেয়ের মৃত্যুর পর যখন তিনি শোকে কাতর, এই সুযোগে জন ব্রিগেন মল্লিক ও জীবন্ত হাগিদক তার ছেলে ওবায়েদুর রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লিজার মরদেহ দাফন করে। এ কারণে দোষীদের শাস্তির দাবিতে আদালতে মামলা করেছেন। 

তিনি আরো জানান, মেয়ের দাফনের কয়েক দিন পর অফিসে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারি। তখন ঢাকায় সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইনুদ্দিন মাইনুল হেড অফিসে তাকে খবর দিয়ে নেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে কোথাও অভিযোগ না দেয়ার হুমকি দেন। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন তিনি। 

কমলগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য তরুণী লিজার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পর্যায়ক্রমে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!