৯৯৯-এ ফোন, থানায় খবর—তবু বাঁচানো গেল না বৃদ্ধকে
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে রাস্তায় অচেতন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা এক বৃদ্ধকে উদ্ধারে ৯৯৯ নম্বরে একাধিকবার ফোন এবং থানায় গিয়ে জানানোর পরও সময়মতো পুলিশের সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকার পর আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউলাহাটি আলোকিত স্কুলের গলিতে ওই বৃদ্ধকে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
.png)
প্রত্যক্ষদর্শী দোকানদার বাবুল হোসেন জানান, রোববার রাতে নুরু মেম্বারের গলির একটি মসজিদের সামনে প্রথম বৃদ্ধকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে মোয়াজ্জেমসহ কয়েকজন তাকে সেখান থেকে নিয়ে বাবুলের বাড়ির সামনে একটি মাদ্রাসার কাছে বসান। তখন বৃদ্ধ এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে ঠিকমতো দাঁড়ানো, বসা কিংবা কথা বলা—কোনোটিই করতে পারছিলেন না।
বাবুল বলেন, মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে বৃদ্ধকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। পরে বৃদ্ধ খাবার চাইলে তাকে রুটি দেওয়া হয়। রুটি খাওয়ার পর পানি পান করেন তিনি। রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত তিনি বৃদ্ধের পাশে ছিলেন বলে জানান বাবুল।
তার অভিযোগ, বৃদ্ধের গুরুতর অবস্থা দেখেও তাকে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, ফজরের নামাজের সময় বৃদ্ধ সেখানেই মারা গেছেন। পরে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
বাবুলের দাবি, ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এলে বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হতে পারত।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী আনোয়ার হোসেন জানান, রোববার রাত ১১টার দিকে তিনি খবর পান, ঝাউলাহাটি আলোকিত স্কুলের সামনে এক বৃদ্ধ পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বৃদ্ধের পরিচয় জানতে চান। প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে অল্প অল্প করে কথা বলেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের বাড়ি ভোলা এবং নাম হাবিব রহমান বলে জানান।
আনোয়ারের ভাষ্য, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান। ওই বৃদ্ধ অত্যন্ত জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন, কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করা প্রয়োজন—এমন তথ্য পুলিশকে জানান তিনি। আশপাশে পর্যাপ্ত লোকজন না থাকায় একা তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান। তবে ৯৯৯-এ ফোন করার পরও কোনো পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধের নাম মো. হাবিব রহমান এবং তার বাবার নাম হাজী ইউসুফ আলী। তার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায়।
তবে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্বজনরা ওই অসুস্থ বৃদ্ধকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় রেখে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি চকবাজার এলাকায় স্বজনের বাসায় থাকতেন বলেও প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ওসি বলেন, ঝাউলাহাটি এলাকায় একটি মসজিদের পাশে বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ও মসজিদের হুজুররা তাকে পাশে বসিয়ে খাবার দেন। পরে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে তার নাম জানা গেলেও পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হবে।
৯৯৯-এ ফোন ও থানায় গিয়ে জানানোর পরও পুলিশ সহায়তা করেনি—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি প্রথমবার এ অভিযোগের কথা শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।