ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

গো-খাদ্যে ‘সচ্ছলতার স্বপ্ন’

খায়রুল বাশার আশিক
প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৮ জুলাই ২০২২
গো-খাদ্যে ‘সচ্ছলতার স্বপ্ন’
রাজধানীর কচুক্ষেতে পশুর হাটের পাশে বিক্রি হচ্ছে গো-খাদ্য- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আর মাত্র একদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে পুরোদমে। কিন্তু সেই পশুটিকে কিনে তো খাওয়াতে হবে কিছু। তাই তো গো-খাদ্যের বেশ চাহিদা এখন। আর সেই চাহিদাকে ঘিরেই সচ্ছলতার স্বপ্ন বুনছেন কিছু মানুষ। গরুর হাটের কাছে, পথের ধারে খুলে বসেছেন গো-খাদ্যের দোকান। সেখানে বিক্রি হচ্ছে মাংস কাটার নানা সামগ্রীও।

এসব দোকান ক্ষণস্থায়ী, ব্যবসাটাও মৌসুমি। তবু তাদের ক’দিনের দোকানে লুকিয়ে আছে এক টুকরো ‘সচ্ছলতার স্বপ্ন’। 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা কোরবানির পশুর জন্য খড়, ঘাস, ভুষি কিনতে ভিড় করছেন রাস্তার পাশের ক্ষণস্থায়ী দোকানগুলোতে। অনেকেই কিনে নিচ্ছেন পশু জবাইয়ের কাঠের গুঁড়ি, পাটি, দড়ি, ছুরি-চাপাতি। এসব পণ্যের জোগান দিচ্ছেন কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী। এছাড়া ফল ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতা, ভ্যানচালকসহ নানা পেশার মানুষ বাড়তি লাভের আশায় সপ্তাহখানেকের জন্য বিক্রি করছেন কোরবানির নানা সামগ্রী।

গো-খাদ্যের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে মাংস রাখার পাটি ও মাংস কাটার গাছের গুঁড়ি- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গো-খাদ্য ও কোরবানির এসব সামগ্রীর দামও কাছাকাছি। স্থানভেদে ৫-১০ টাকা দাম বাড়ে-কমে। যেমন গমের ভুষি প্রতি কেজি ৪০-৪২ টাকা, প্রতি আটি খড় ১৮-২০ টাকা, প্রতি কেজি কুড়া ২৫-৩০ টাকা, ছোলার ভুষি ৫৫-৬০ টাকা, সরিষার খৈল ৪০-৪৫ টাকা, কাঁচা ঘাসের আটি ১০-১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি আরো কম দামে বিক্রি হয় এসব গো খাদ্য। জানা গেছে, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আমিন বাজারে এসব পণ্যের দাম সবচেয়ে কম।

রাজধানীর কচুক্ষেতের অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্বাধীনতা চত্বরের সামনে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে কোরবানি পশুর বিভিন্ন ধরনের খাবার, মাংস রাখার পাটি, কাঠের গুঁড়ি। সকাল থেকে শুরু হয়ে এ কর্মযজ্ঞ চলে মধ্যরাত অবধি।

এখানকার একজন গো-খাদ্য বিক্রেতা রহমত মিয়া। পেশায় দিনমজুর এ ব্যক্তি এসেছেন কিশোরগঞ্জ থেকে। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি আয়ের আশায় তিনি এ ব্যবসা করতে ঢাকায় এসেছেন। রহমত মিয়া জানান, নিজ গ্রাম থেকে এনেছেন গো-খাদ্য। কোরবানির ২-৩ দিন আগে এসব পণ্যের বিক্রি বাড়ে। যাদের গরু কেনা হয়ে গেছে তারা খড়, ভুষি, ঘাস কিনছেন। আবার হোগলা, পাটি, কুন্দা কিনছেন।

ঈদের আগের রাতে বিক্রি কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। 

কোরবানির পশুর জন্য শুকনো খড় ও মাংস মাংস রাখার পাটি বিক্রি করছেন এক মৌসুমি ব্যবসায়ী- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বাধীনতা চত্বরের পাশ থেকেই কোরবানির গরুর জন্য খড়, ভুষি কিনতে আসেন কাফরুলের বাসিন্দা আজিজুল হক। তিনি বলেন, গরুর জন্য খাবার তো লাগবেই। তাই বেশি করে কিনে নিলাম। যেন বারবার আসতে না হয়। ঈদের আগে এসব পণ্য নিত্যপ্রয়োজনীয়।

ঈদ এলেই কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস টুকরো করতে ধারালো দা-বটি-ছুরি-চাপাতির চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এ চাহিদা পূরণ করতে শেষ সময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারিগররা। সরাসরি কামার বা কারিগরদের কাছ থেকে কিনে এনে রাস্তার ধারে এসব পণ্য বিক্রি করেন এক শ্রেণির মানুষ। এমনই একজন হাজী শরাফত উদ্দিন। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় ফুটপাতে সাজিয়েছেন দা-বটি-ছুরি-চাপাতির দোকান।

শরাফত উদ্দিন জানান, পাঁচ বছর ধরে প্রতিবার কোরবানির সময় বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করেন। কোরবানির আগে ৪-৫ দিন এ কাজ করেই ১০-১৫ হাজার টাকা লাভ হয়। তবে গত বছর করোনার কারণে ব্যবসা তেমন জমেনি। এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

পশুর হাটের পাশেই বিক্রি হচ্ছে গো-খাদ্য ও মাংস কাটার সামগ্রী- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কোরবানির মাংস রাখার বড় হোগলা বা পাটি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকায়। বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল থেকে আসা এসব পাটি পাইকারি দামে কেনেন কেউ কেউ। পাইকারি ক্রয় মূল্য পড়ে ১২০-১৪০ টাকা। আবার ১৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাংস কাটার তেঁতুল কাঠের গুঁড়ি।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানেন ঈদের পর থেকেই এসব পণ্যের চাহিদা থাকবে না। কোরবানি শেষেই তাদের ফিরতে হবে আগের কর্মে। তবু ক্ষণিকের জন্য পসরা সাজানো। সমৃদ্ধির আশায় সাজানো ক্ষুদ্র ব্যবসাটা যেন এক টুকরো ‘সচ্ছলতার স্বপ্ন’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!