রাজাপুরের নৈকাঠিতে চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর, থানায় অভিযোগ
রাজাপুরের নৈকাঠিতে সন্ত্রাসীকে চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর একটার ঘটনায় রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আহত ব্যবসায়ী সজল খন্দকারের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে এ অভিযোগ করেন। এতে অভিযুক্ত করা হয় বড় বিড়ালজুড়ি এলাকার ওলিউর রহমানের পুত্র মো. সরোয়ার হাওলাদার (৪৫), জয়কুল এলাকার আবুল বাশারের পুত্র মোঃ জিয়া (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরোয়ার প্রায়ই টাকা পয়সা চায়, যদি না দেয় তাহলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধন করবে বলে হুমকি প্রদান করে। শুক্রবার দুপুর একটার দিকে ব্যবসায়ী সজল খন্দকার মোটরসাইকেল যোগে কাউখালীর বিড়ালঝুড়ি থেকে নৈকাঠি যাওয়ার সময় নৈকাঠি বড় ব্রীজে পৌঁছলে পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল থামিয়ে লাথি মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। গাড়ি থেকে পাকা রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এলোপাথারিভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করে।
মোবাইল ফোন ভাংচুর করে এবং মোটরসাইকেল (যাহার বরিশাল মেট্রো ল-১৩-০৩২১, এফজেড ভার্সন-৩) হামলাকারীরা ছিনিয়ে নেয়। ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও খুন জখম করাসহ ক্ষতি সাধন করার হুমকি প্রদান করে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করেন।
অভিযোগকারী রুমা আক্তার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, মূল হামলাকারী সরোয়ার ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী। সে আন্তঃজেলা ডাকাত ও অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত। ডাকাতি, মাদক, খুন, ধর্ষণ, দস্যুতা, অপহরণসহ নানান অপকর্মে তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাথে চলাফেরা করলেও সে সরকারী দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে একের পর এক অপকর্ম অব্যাহত চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার বর্ণনা দিয়ে রুমা আক্তার বলেন, সরোয়ারের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ১. ডিএমপি রমনা থানার মামলা নং ৮৩, তাং- ২৩/০২/২০০২ইং, ধারা- ৩৬৫ দঃবিঃ, বাদী- এসকেন্দার আলী ফরাজী, সাং- কাঠিপাড়া, উপজেলা: রাজাপুর, জেলা: ঝালকাঠি। ২. ডিএমপি, পল্লবী থানার মামলা নং ২০, তারিখ- ০৫/০৯/২০১৭ইং, ধারা- অস্ত্র আইনের ১৯-ক/১৯-এফ, বাদী: এসআই মো: আউয়াল হোসেন। ৩. ডিএমপি, মিরপুর থানার মামলা নং ২৬, তারিখ- ০৭/১০/২০০৪, ধারা- ৩০২/৩৪, দঃবিঃ (শুক্তাগড় গ্রামের বাদল হত্যা মামলা) বাদী- এসআই আসলামউদ্দিন। ৪. ডিএমপি, মতিঝিল থানার মামলা নং ১০ (৬)০৩, ধারা- ৪২০/৪০৬ দঃবিঃ। ৫. ডিএমপি, খিলগাও থানার মামলা নং ২৭ (১০) ০৪, ধারা- ৪২০/৪০৬ দঃবিঃ। ৬. ডিএমপি, খিলগাও থানার মামলা নং ৩৬ (১০)০৪, ধারা- ৩৬৪ দঃবিঃ। ৭. ডিএমপি, গুলশান থানার মামলা নং ৪৯ (৯)০৩, ধারা- ৩০২/৩৪ দঃবিঃ। ৮. ডিএমপি, ধানমন্ডি থানার মামলা নং ৪৫ (২)০৪, ধারা- ৩০২/৩৪ দঃ বিঃ। ৯. ডিএমপি, মিরপুর থানার মামলা নং ৩৪ (৯)০৪, ধারা- ৩০২/৩৪ দঃ বিঃ। ১০. ডিএমপি, বাড্ডা থানার মামলা নং ৬ (১০)০৪, ধারা- ৩৪২/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/১১৪ দঃ বিঃ। ১১. ডিএমপি, খিলগাও থানার মামলা নং ২৭(১০)০০, ধারা- ৪২০/৪০৬/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৪ দঃ বিঃ। ১২. ডিএমপি, গুলশান থানার মামলা নং ৫৮ (১০)০৪, ধারা- ৪০৬/৪০২ দঃ বিঃ।
১৩. ডিএমপি, রমনা থানার মামলা নং ০৪(১)০৪, ধারা- ৩০২/৩৪ দঃ বিঃ। ১৪. ডিএমপি, রমনা থানার মামলা নং ০৭ (১১)০৩, ধারা- ৩৪২/৩২৩ দঃ বিঃ। ১৫. ডিএমপি, মিরপুর থানার মামলা নং ৪০, তাং- ১১/১০/২০০৪, ধারা- ১২০ (ম)/ ৩৬৪/৩০২/২০৯/৩৪/২০১ দঃ বিঃ। ১৬. ডিএমপি, পল্লবী থানার মামলা নং ১৯, তাং- ০৫/০৯/২০১৭, ধারা- ৩৯৫/৩৯৭ দঃ বিঃ। ১৭. ডিএমপি, কোতয়ালী থানার জিডি নং ৫৯৯, তাং- ১৩/০৯/২০১৩। ১৮. ডিএমপি, কোতয়ালী থানার মামলা নং ১৭, তাং- ১৫/০৯/২০১৩, ধারা- ৩৬৪/৩৮৫/৫০৬ দঃ বিঃ। ১৯. ডিএমপি, ধানমন্ডি থানার মামলা নং ১০, তাং- ১১/০৮/২০১৪, ধারা- ৪২০/৪০৬ দঃ বিঃ। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা চলমান রয়েছে।
রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস জানান, শুক্রবার দুপুরের ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।