কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গো-খাদ্যের জমজমাট ব্যবসা
কোরবানি ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকী। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গো-খাদ্যের চাহিদা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে যারা কোরবানির জন্য পশু নিয়েছেন তাদের কাছে এ খাদ্যের চাহিদা খুব বেশি।
এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার বিভিন্নস্থানে গো খাদ্যের অস্থায়ী কিছু বাজার গড়ে উঠেছে। যেখানে গরুর জন্য কাঁচা ঘাস, খড় ও ভূূূষি বিক্রি হচ্ছে জমজমাট। এছাড়া গরু কাটার সুবিধার্থে গড়, দা, ছুরি, বটিসহ নানা উপকরণ বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তারা অন্য পেশার সঙ্গে জড়িত কিংবা শ্রমিকের কাজ করেন। কোরববানিকে সামনে রেখে গত শুক্রবার থেকে তারা খর, তাজা ঘাস ও গড় নিয়ে জনাকীর্ণ এলাকায় বসেছেন। একেক বান্ডেল ঘাস ও খড় ৪০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পশু কিনে যারা নিজ বাড়িতে রাখছেন তারাই মূলত এসবের ক্রেতা।

কোরবানিকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে গো-খাদ্য বিক্রির বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ‘বাজার’ লক্ষ্য করা গেছে। পৌর এলাকার সাবেরা সোবাহান গার্লস স্কুলের সামনে, রেলওয়ে স্টেশনের সামনে, কাজী পাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে, নিয়াজ মোহাস্মদ স্টেডিয়ামের সামনে, জেল রোডের মোড়ে, থানা ব্রিজের সামনে, টি এ রোডে এসব অস্থায়ী বাজার বসেছে।
গো-খাদ্য বিক্রির দেখা মিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে জেল রোডের মোড়ে। রোববার দুপুরে সেখানে গিয়েও দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতার আনা গোনা।
জেল রোডের মোড়ের বিক্রতা আজম খাঁন, রেনু মিয়া ও অলফত খাঁন জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে তারা প্রতি বছরই এই বাজার নিয়ে বসেন। ব্যবসা মোটামোটি হচ্ছে। আগামী দুই দিন ভালো হবে বলে তারা জানান। কাঁচা ঘাস এক মোটা ৪০-৫০ টাকা করে, এক মোটা খড় ৫০-৬০ ও ভূষি কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন।

টি এ রোডের বিক্রেতা জসিম মিয়া জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে তিনি খর, কাঁচা ঘাস ও ভূষি নিয়ে এসেছেন। বিক্রিও মোটামুটি ভালোই। তবে করোনা ভাইরাসের জন্য গত বছর তেমন ব্যবসা হয়নি। এবার মোটামোটি হচ্ছে। তবে আগামী দুই দিন ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে ও ব্যবসা ভালো হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
থানা ব্রিজের কাছে কথা হয় বিক্রেতা কাজীপাড়ার কুদ্দুছ মিয়া জানান, বিক্রি মোটামুটি মন্দ নয়। করোনা ভাইরাসের জন্য মানুষজন একটু কম আসছে। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হবে বলে তারা আশাবাদী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পৈরতলা এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ মাহমুদ জিল্লু জানান, কোরবানির জন্য একটি গরু কিনেছেন গতকাল। কোরবানির গরুর জন্য খড় ও ঘাস কিনতে ছুটে এসেছেন থানা ব্রিজের সামনে। কথা হলে হাসি মুখেই বলেন, আরো দুইদিন তো গরুকে পালতে হবে। তাই খর ও ঘাস কিনতে এলাম।

পৌর এলাকার কলেজপাড়ার বাসিন্দা রমুজ আলী ও মধ্যপাড়া এলাকার কাশেম মিয়া বলেন, কোরবানির জন্য গরু কিনেছি। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি খর ও ঘাস কিনতে এসেছি। অস্থায়ী বিক্রেতারা কাঁচা ঘাস, ভূষি ও খড় নিয়ে বসায় আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।
পোস্ট অফিসের সামনে মঠের গোড়ায় গড় বিক্রেতা মধ্যপাড়ার সাগর মিয়া জানান, আজ দুপুর পর্যন্ত তিনি ১২০০ টাকা বিক্রি করেছেন। একেকটি গড় সাইজ বুজে ১৫০-৩০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। তেঁতুল গাছ কেটে ৯০টি গড় তিনি তৈরি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, গড়ের পাশাপাশি তিনি দা, বটি বিক্রি করছেন। একেকটি দা, বটি সাইজ অনুযায়ী ২০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামীকাল থেকে বিক্রি বেশি হবে বলে তিনি বেশ আশাবাদী।