ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গো-খাদ্যের জমজমাট ব্যবসা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদুল আজহার কোরবানিকে কেন্দ্র করে গো-খাদ্যের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। মৌসুমী চাহিদা মেটাতে শুধু জেলার প্রধান হাটগুলোতেই নয়, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বসেছে গো-খাদ্যের বাজার।
বিক্রেতারা জানান, মূলত তারা অন্য পেশার সঙ্গে জড়িত, কোরববানিকে সামনে রেখে গত বুধবার থেকে খড়, তাজা ঘাস, খৈল ও ভুসি নিয়ে জনাকীর্ণ এলাকায় বসেছেন। একেক বান্ডেল ঘাস ও খড় ৪০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পশু কিনে যারা নিজ বাড়িতে রাখছেন তারাই মূলত এসবের ক্রেতা।
গো-খাদ্য বিক্রির দেখা মিলে পৌরশহরের টি,এ রোডের ফকিরাপুলের কাছে সদর থানার ঠিক সামনের অংশে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা।
বিক্রেতা মোহন মিয়া জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে তিনি খড়, কাঁচা ঘাস ও ভুসি নিয়ে এসেছেন। বিক্রিও মোটামুটি ভালো। তবে করোনাভাইরাসের জন্য দুই তিন বছর আগে যা বিক্রি করতাম, এখন তেমন হচ্ছে না। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে।
পৌর এলাকার সাবেরা সোবাহান গার্লস স্কুলের সামনে, রেলস্টেশনের সামনে, কাজী পাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে ও নিয়াজ মোহাস্মদ স্টেডিয়ামের সামনে এসব অস্থায়ী বাজার বসেছে।
টিএ রোডের ফকিরাপুল সংলগ্ন এলাকার বিক্রেতা কাজীপাড়ার রহিছ মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে উত্তর পৈরতলার সাজু মিয়া ও শেরপুরের অলফত খাঁ বলেন, বিক্রি মোটামুটি মন্দ না। করোনাভাইরাসের জন্য মানুষজন একটু কম আসছে। তবে শুক্রবার বিক্রি সবচেয়ে বেশি হবে আশা করছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মধ্যপাড়ার খন্দকার সোহরাব হোসেন তুষার কোরবানির জন্য দুটি গরু ও একটি খাসি কিনেছি আজ। কোরবানির গরুর জন্য খড় ও ঘাস কিনতে ছুটে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে।
তিনি বলেন, আরো দুই দিন তো গরুগুলো পালতে হবে। তাই খড় ও ঘাস কিনতে এলাম।
পৌর এলাকার পাইকপাড়ার বাসিন্দা মো. আশিক হোসেন ও মেড্ডার সুমন মিয়া বলেন, কোরবানির জন্য গরু কিনেছি। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি খড় ও ঘাস কিনতে এসেছি। অস্থায়ী বিক্রেতারা ঘাস ও খড় নিয়ে বসায় আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।
কুমারশীল এলাকায় আমিন কমপ্লেক্সের সামনে ‘গড়’ বিক্রেতা মো. হায়দার জানান, আজ বিকেল পর্যন্ত তিনি ১২টি গড় বিক্রি করেছেন। একেকটি গড় সাইজ বুঝে ৩০০-৬০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন।
তিনি আরো জানান, তেঁতুল গাছ কেটে ১১০টি গড় তিনি তৈরি করেছেন। আগামীকাল বেশি বিক্রির আশা করছেন।